নেত্রকোনায় অডিটরিয়াম না থাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবির

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০৬

নেত্রকোনায় সরকারি এবং বেসরকারি কোনো ধরনের অডিটরিয়াম না থাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। ১৯৭৯ সালে মোক্তারপাড়ায় মহুয়া নামে সরকারি অর্থায়নে একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ করা হলেও এই অডিটরিয়াম প্রায় ১০ বছর যাবত্ পরিত্যক্ত। এই অডিটরিয়ামটি কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন অডিটরিয়াম করার জন্য এখন আর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই মহুয়া নামের অডিটরিয়ামটি একবার শিল্পকলার নামে থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে এটি পৌরসভার হাতে চলে যায়। মালিকানা নিয়ে পরে শিল্পকলার সাথে পৌরসভার মামলা হয়। শিল্পকলা মালিকানা চেয়ে আদালতে মামলা করে। এই মামলা এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। ফলে নেত্রকোনায় আর কোনো নতুন করে অডিটরিয়াম নির্মাণ করা হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন তিনি নতুন অডিটরিয়াম কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেন এবং প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেন। কিন্তু অডিটরিয়াম নির্মিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে প্রশান্ত রায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনিও উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নতুন করে অডিটরিয়াম কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ, শিল্পকলা এবং পৌরসভা উদ্যোগ নিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

বর্তমানে নেত্রকোনার মোক্তারপাড়ায় ১৯৬০ সালে তত্কালীন নেত্রকোনার এসডিও খানে আলম খান তিনশ আসনবিশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউসিসি পাবলিক হল) হলরুম নির্মাণ করেছিলেন। ২০১২ সালে এটি কিছুটা সংস্কার করা হয়।

নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একটি বড় ধরনের অডিটরিয়াম নির্মাণ করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না। নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সম্পাদক নাট্যব্যক্তিত্ব সানাওয়ার হোসেন ভুইয়া বলেন, নতুন অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করা হলেও কর্তৃপক্ষ একেবারে নীরব।

জেলা উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উন্নতমানের অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য গত কয়েক বছর যাবত্ আলাপ-আলোচনা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসছেন না। ফলে সকল প্রকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান মহুয়া অডিটরিয়াম নিয়ে যে মামলা রয়েছে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ অডিটরিয়ামটি সংস্কারের কাজে যেমন হাত দিতে পা্রছে না, তেমনি নতুন করেও অডিটরিয়াম নির্মাণ করতে পারছে না।