২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আলোচনার প্রথমদিনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য বাহাসে জড়ান জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক কি না সেই প্রশ্নে। বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই কবিতা বাংলাদেশে এখনও বাজে। তাহলে এটা শুনতে কেন অসুবিধা? এর আগে বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কোনোদিন এই বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন— এরকম কোনো প্রমাণ যদি বিএনপির সদস্যরা এই সংসদে হাজির করতে পারেন, তাহলে আমি এই সংসদ থেকে পদত্যাগ করব।
সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশ করে বিএনপির মোশাররফ বলেন, আমরা সংসদে কোনো কথা বলতে গেলেই উনারা বিরোধিতা করার চেষ্টা করেন। কোনো কথা বলতে গেলেই হাউকাউ করা হয়। আপনারা শুধু বলেই যাবেন, বলতে দেবেন না, এটা হতে পারে না। আপনারা গলাবাজি করবেন, আর আমরা কিছু বলতে পারবো না, এটা হয় না। আমাদের বলার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, যেখানে বিরোধিতা নেই সেখানে স্বেচ্ছাচারিতা ও একনায়কতন্ত্রের জন্ম হয়। এই সংসদে আমরা কথা বলার জন্য এসেছি। আমরা সংসদে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন— আপনারা সংসদে আসেন, মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু সংসদে এসে দেখছি, আমরা কোনো কথা বলতে গেলেই হাউকাউ করা হয়। এটা কেন? আমরা তো ৫-৬ জন। পুরো সংসদে তো আপনারাই। ৫ জনের কথা শুনতে এত অসুবিধা কী? আপনারা শতভাগ আছেন, আমরা না হয় ৫ শতাংশ আছি। আমাদের কথা বলার সমান সুযোগ দিতে হবে। কথা বলতে দিতে হবে।
মোশাররফ আরো বলেন, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমান এদেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। জিয়াউর রহমানকে খুনি ও তারেক রহমানকে লুটেরা বলা হয়। উনাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হলে আমরা অবশ্যই তার জবাব দিতে পারি। এর আগে দুইদিন সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে বক্তব্য শুরু করেন।
তাদের সেই বক্তব্যের জবাবে সরকার দলীয় সদস্য আব্দুল মান্নান বলেছেন, এবারের সংসদে আরো একটি বিরোধী দল যুক্ত হয়েছে। বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য আছেন। উনারা সবাই বক্তৃতার শুরুতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং ঘোষণায়ই দেশ স্বাধীন হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মান্নান বলেন, উনারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। খালেদা জিয়া কী কারণে জেলে গেছেন তা দেশের সবাই জানেন। এই নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি টিকে থাকবে না। এগুলো বদলান। সংসদের বৈধতা নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, সংসদ অবৈধ হলে সংসদে এলেন কেন? আপনি বৈধ হলেন, আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবৈধ হলেন কীভাবে? আসল বিষয় সেটা না, তারেক রহমান ব্যবসাটা ঠিকমতো করতে পারেননি বলে এই ভরাডুবি। বগুড়ার উপনির্বাচনে তারেক রহমান ১০ কোটি টাকা নিয়ে সিরাজকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
রিজার্ভ চুরি নিয়ে মানুষ আমাদের
প্রশ্ন করে: আলী আশরাফ
বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি হয়ে গেল। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলো না। এটা দুঃখের বিষয়। মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে।’
অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আলী আশরাফ বলেন, ঋণ আদায়ের যত প্রক্রিয়া আছে সব প্রয়োগ করুন। দুর্ঘটনাক্রমে কেউ ঋণ খেলাপি হলে একটা কথা থাকে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপি করলে তাদের ধরতে হবে। কেউ খেলাপি ঋণের টাকা দেশ থেকে পাচার করলে সেটা যদি ধরা পড়ে, তাহলে তারও রেহাই নেই। এজন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় জোরালো তদারকি দরকার। আশা করি, অর্থ পাচার রোধে ইস্পাত কঠিন সংকল্প নিয়ে এগোবেন।
