মধ্যপ্রাচ্যে আরো এক হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:১১

ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানের পরমাণু চুক্তি না মানার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফের মধ্যপ্রাচ্যে আরো এক হাজার সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা এই উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে চীন এবং রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। যদিও দেশ দুটি উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে। জার্মানি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি না মানলে ইরানকে ভুগতে হবে। এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তারা কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ চান না। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার

মধ্যপ্রাচ্যে আরো সৈন্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেছেন, ইরানি বাহিনীর শত্রুতামূলক আচরণের পাল্টা জবাব হিসাবে তারা সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না, তবে ওই অঞ্চলে আমাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা আর কল্যাণের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সৈন্যদের সংখ্যা বাড়াবে বা কমাবে। তবে অতিরিক্ত সেনা কোথায় মোতায়েন করা হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী আরো কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, সেগুলো ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে ইরানের হামলার ছবি। নতুন এই দাবি এমন সময়ে আসলো যখন ইরান ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুমোদিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রকে চীন-রাশিয়া ও ইরানকে জার্মানির সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্টের আরো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চীন এবং রাশিয়া। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যানডোরার বাক্স’ খুলছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা ‘প্যানডোরার বাক্স’ না খোলার আহবান জানাচ্ছি। অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো যুক্তি নেই। তিনি ইরানকেও শান্ত থাকার আহবান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে সরে আসার আহবানও জানান। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। কারণ এটা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্রদের অবিবেচকের মতো কাজ করা উচিত নয়। কারণ সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে উস্কানি দেওয়া হতে পারে। এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে হবে। না হলে দেশটিকে এর ফল ভোগ করতে হবে।