দেশের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকলে তা জব্দ করে এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের ওষুধ বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শনাক্ত ও বিক্রয়কারীদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ‘ঢাকায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় । প্রতিবেদনটি যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, ফার্মেসিতে ৯৩ ভাগ ওষুধ যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তাহলে জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি বিশ্বাস করতে চায়নি। এ জন্য আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে এগুলো দেখভাল ও নজরদারি করার জন্য। কিন্তু বিদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একই বিষয়টি দেখভাল করে থাকে। আইনজীবী বলেন, আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বন্ধ ও বাজার থেকে জব্দের জন্য আদেশ চাচ্ছি। এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, একজন ব্যক্তি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখনই তিনি ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু সেই ওষুধের মান যদি ঠিক না থাকে তাহলে সেটা ক্ষতিকর। তবে রাষ্ট্র বসে নেই। এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিচ্ছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
