কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ হাসিনা হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন ঘটনায় ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্রীরা গণরুম ছাড়ারও খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা।
শেখ হাসিনা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার আবদুর রাজ্জাক জানান, হলে আবাসিক আসন সংখ্যা ৫৬৮। গণরুমসহ এই হলের আবাসিক ছাত্রীর সংখ্যা ৮৭৮। ছয়টি গণরুমের মধ্যে প্রজাপতির আবাসিক ছাত্রী ৩৩ জন। আর এখানেই ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, ছাত্রী নির্যাতন ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও শঙ্কা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী নির্যাতন বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পাচ্ছে না। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা তদন্ত কমিটির কাছে জোরালোভাবে নির্যাতনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। রাজনৈনিক চাপসহ নানা হেনস্তার শঙ্কয় হলের সাধারণ ছাত্রীরা এখন দারুন মানষিক চাপে রয়েছেন। ঝামেলা এড়াতে অধিকাংশ ছাত্রীই গণরুম ত্যাগ করেছেন।
তবে গণরুমের ছাত্রীদের বাড়ি চলে যাওয়ার কোনো তথ্য জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে যাদের ক্লাস-পরীক্ষা নেই, তাদের অনেকেই হল ছেড়ে বাড়ি বলে জানিয়েছেন হলের সহকারী রেজিস্ট্রার আবদুর রাজ্জাক।
এদিকে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি শাখার নেতারা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রথম বর্ষের নবীন এক ছাত্রীকে রাতভর শারীরিক-মানষিক নির্যাতন, বিবস্ত্র করে ভিডিওধারণসহ পৈশাচিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার মূল নায়কসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা। এছাড়া ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীয় গভীর উদ্বেগ জানান ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।
