চার ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি, দুই ফিফটি এবং পাঁচ উইকেট। ১২৮ গড়ে ৩৮৪ রান করে এই বিশ্বকাপে এখনো সেরা রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাকিব।
সাকিব আল হাসান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, সর্বকালের সেরাদের একজন; এসব এখন পুরোনো কথা। নতুন প্রশ্ন হলো, সাকিবের এমন বিধ্বংসী রূপ কী বিশ্ব এর আগে দেখেছে? নাকি এখনই সেরা সময়টা কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার?
সাকিব নিজে অবশ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারলেন না। তিনি এটা নিশ্চিত যে সময়টা ভালো যাচ্ছে, ‘অবশ্যই আমি এখন ভালো সময় পার করছি। জানি না এটাই সেরা সময় কিনা। তবে সেরা সময় থাকলেই যে সবথেকে বেশি রান করবো বা বেশি উইকেট পাব জিনিসটা আসলে তা না। অনেক সময় সেরা অবস্থাতে না থেকেও অনেক ভালো করা যায়। অনেক সময় ভালো অবস্থাতে থেকেও বেশি রান করা সম্ভব হয়নি। ঐ সময়টাতেও আমি ভালো অবস্থাতে ছিলাম। এখনো আমি ভালো অবস্থাতে আছি। জানি না এর কারণ কী। বেশ কষ্ট করে এই পর্যায়ে এসেছি। যখনই কঠিন সময় আসে ঐ কষ্টের কথা মনে পড়ে। আমাকে সাহস দেয় ভালো করার।’
গত দুই বছরে সাকিবের কোনো ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল না। এখন পরপর দুইটা সেঞ্চুরি। হঠাত্ কোন মন্ত্রে এমন পাল্টে গেলেন সাকিব? সাকিবের উত্তরটা সোজা ছিল, ‘দুই বছরের মধ্যে দেড় বছরই ব্যাটিং করেছি পাঁচ নম্বরে। ওপরের ব্যাটসম্যানরা এত বেশি ভালো পারফর্ম করেছে যে পরে আসলে ঐ ধরনের সুযোগ আসেনি। ব্যাটিং করতে নামতাম ৩০-৩৫ ওভারে। ৩ এ আসার পর থেকে ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে। ইনিংসটা বড় করার সুযোগ পাচ্ছি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এই জয়টা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাকিব বলছিলেন, বড় জয় পাওয়ার পেছনে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে, ‘ঐ কয়েকটা ম্যাচ আমাদেরকে অনেক সাহায্য করেছে। ওখানে আমরা কিন্তু প্রতিটা ম্যাচই চেজ করে জিতেছি। কোনো সময়ই আমাদের কিন্তু মনে হয়নি যে আমরা চাপ নিয়ে ব্যাটিং করছি। বড় শট খেলেছি। যথাযথ ক্রিকেটিং শট খেলেছি যা বড় বড় দেশগুলো করে থাকে। আমরা ঐ ধরনেরই চেষ্টা করছি। এজন্য কোচিং স্টাফদের কৃতিত্ব দিতে হয়।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় টার্গেট দেওয়ার পর মাঝবিরতির সময় ড্রেসিং রুমের অবস্থা কী ছিল জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ড্রেসিং রুমে আমাদের কারোরই এটাকে কঠিন টার্গেট বলে মনে হয়নি। সবাই খুব প্রশান্তিতেই ছিলাম। এটা আমাদেরকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। বিশ্বাস করছিলাম যে আমরা রানটা চেজ করতে পারবো। যখন ওপেনাররা তাদের ইনিংস শুরু করলো ড্রেসিং রুমে সবাই খুব রিল্যাক্স মুডেই ছিলাম। কোনো সময়ই আমাদের মধ্যে ভয় কাজ করেনি। ঐটাই চেজ করার পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আমরা ব্যাটিংও ভালো করেছি।’
আরও পড়ুন: একনেকে ৮০৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ প্রকল্প অনুমোদন
আগামী শুক্রবার নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ষষ্ঠ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ঐ দলে খুব ভালো কয়েকজন ফার্স্ট বোলার আছে। সাকিব এটা নিয়ে চিন্তিত না, ‘এই বিশ্বকাপে গত চারটি ম্যাচে সব প্রতিপক্ষ দলেরই অন্তত দুজন বোলার ছিলেন যারা কমপক্ষে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করেন। তাদেরকে আমরা ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছি। পেস মোকাবিলা করা এবং চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়ার দক্ষতা আমাদের টিমের আছে বলেই আমি মনে করি।’
ইত্তেফাক/আরকেজি
