ফুলবাড়ীতে শিব চতুদর্শী ব্রত পালনে মন্দিরে মন্দিরে ভক্তের ঢল

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:৫২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সনাতন ধর্মালম্বীদের শিব চতুদর্শী ব্রত পালনে হাজারও ভক্তের ঢলে মূখরিত ছিল নাওডাঙ্গা জমিবাড়ীর শিব মন্দির। প্রতি বছর ব্রত পালনে ঐতিহ্যবাহী নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ীর প্রাঙ্গনে স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের মানুষজন শিব চতুদর্শী ব্রত পালনে শিব মন্দিরে পূজা অর্চনাসহ নানা কর্মসুচির আয়োজন করে। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রী শ্রী শিব চর্তুদর্শী তিথি ও মহা শিবরাত্রীকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশাপাশি পারিবারিক মন্দিরগুলোতে চলছে বিশেষ পূজা-অর্চনা। সন্ধ্যা নামতেই প্রতিটি মন্দিরে ভিড় করছেন ভক্ত ও পূজারীরা। 

মন্দির কমিটিসহ আগত ভক্তরা বলেন, বছর বাংলা বর্ষপঞ্জির ফাল্গুন মাসের চর্তুদশী তিথিকে শিব চর্তুদশী বা মহা শিবরাত্রী বলা হয়। সেই অনুযায়ী শনিবার সন্ধা ৬ টা ৪০ মিনিটে শিব চতুদর্শী ব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন পুরোহিত। পূজা অর্চনা শুরু পর থেকে দিনব্যাপী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ির শিব মন্দিরে শিব চতুদর্শী ব্রত উপলক্ষে শতশত কুমারি নারী সহ ভক্তদের ঢলে মুখরিত জমিদারবাড়ির মন্দির প্রাঙ্গণ। দুর-দুরান্তর থেকে আসা কুমারি নারীসহ শতশত ভক্তরা হাতে হাতে দুধ, কলা, আপেল, চিনি, আগরবাতি শিব (বার্নের পূজা) করা জন্য মন্দিরের সামনে ভিড় করছে। শনিবার বিকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত দুর-দুরান্ত থেকে ভক্তরা শিবের চরণে প্রার্থনা করতে ছুটে আসে। মনের আশা পুরণ ও সংসারে শান্তির লক্ষ্যে ভক্তরা শিবের চরণে বিশেষ প্রার্থনা করেন। পূজা অর্চনা শেষে রাতব্যাপি ভজন সঙ্গীতের আয়োজন করেন আয়োজক কমিটি। অন্য বছর গুলোতে একদিন শিব চতুর্দশীর তিথি থাকলেও এ বছর দুইদিন ব্যাপি ব্রত থাকায় রবিবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত শিব চতুদশী ব্রত পালন শেষ হবে। 

 

উত্তরের জেলা কুড়িগামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দুরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ীর প্রাঙ্গণে অতি প্রাচীনতম একটি শিব মন্দির। অবিভক্ত ভারতবর্ষে অনেক আগে নাওডাঙ্গা পরগনার জমিদার বাহাদুর শ্রীযুক্ত বাবু প্রমদা রঞ্জন বক্সী এটি নির্মাণ করেন। আট দেয়াল বিশিষ্ট এই মন্দিরের উচ্চতা ৩০ ফুট ব্যাস ২০ ফুট এবং মন্দিরের ভেতরের ব্যাস ১২ ফুট। জমিদার আমলে শিব মন্দিরে পূজা হতো খুবেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে। 

লালমনিরহাট উপজেলার হাতিবান্ধা থেকে শিবের ভক্ত অঞ্জলী রানী রায় ও তার স্বামী নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, শিশুকাল থেকে শিব চতুদর্শী ব্রত পালন করে আসছি। এ বছরে শিবের চরণ ধুলি ও মাথায় দুধ ঢেলে পরিবারের সবাই মিলে ব্রত পালনে এসেছি। মনের কামনা-বাসনায় বাবা শিবের কাছে প্রার্থনা করতে পেরে আমাদের ভালই লেগেছে। সেইসঙ্গে মন্দির কমিটির অত্যন্ত সুন্দর আয়োজনে দুর-দুরান্তর থেকে আসা ভক্তরা সুন্দর পরিবেশে শিবের কাছে প্রার্থনা করেছেন। 

স্থানীয় কুমারী মেয়ে অর্চনা রায় ও রনবীর চন্দ্র রায় তারা দুইজনেই বলেন, শিবের কাছে ভাল কিছু চাইলে বাবা শিব তা পুরণ করে। সেই লক্ষ্যেই তারা দুইজনেই তাদের সংসারের সুখ-শান্তির জন্য শিবের কাছে প্রার্থনাসহ কেউ ভাল শিবের মতো বর ও পার্বতীর মতো একজন জীবন সঙ্গীনী পাওয়ার বিশ্বাসে শিবের মন্দিরে এসে বিশেষ প্রার্থনা করেন। 

নাওডাঙ্গা শিব মন্দিরের উদযাপন কমিটির সভাপতি নরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, নাওডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দিরটিতে আমরা প্রতি বছর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মিলে পূজা অর্চনা করে আসছি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ভাবে শিব চতুদশী ব্রত পালনে শতশত নারী ও কুমারী মেয়েরা শিবের মাথায় ফুল, দুধ ঢেলে পরিবারে সুখ-শান্তিসহ দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন। রবিবার বিকাল ৪ টায় শিব চতুদশী ব্রত পালন শেষ হবে।

ইত্তেফাক/এআই