বাংলা
ফরহাদ কবীর খান, সহকারী শিক্ষক (বাংলা )
বালিজুড়ী এফ. এম. উচ্চ বিদ্যালয় , জামালপুর
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? আমাদের প্রত্যাশা তোমরা সবাই অনেক অনেক ভালো থাকো আর সুনাগরিক হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। বন্ধুরা দেশের প্রতি যেমন আমাদের শ্রদ্ধা ভালোবাসা রয়েছে তেমনি রয়েছে দায়িত্বও। আর এসো আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই। শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা বলা , লেখা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। কেননা এ ভাষার মান রাখতে গিয়ে অসংখ্য বাঙালি অকাতরে জীবন দিয়েছেন। বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন সালাম, জব্বার, বরকত, রফিক, শফিক আরও অনেকে। এ ভাষার বানানেও রয়েছে অনেক রকম নিয়ম।
বন্ধুরা, লক্ষ্য করো বাংলা বানানবিধি থাকা সত্ত্বেও বাংলা বানানের অবস্থার খুব উন্নতি ঘটেছে এরকম মন্তব্য করা অনুচিত হবে। কেননা আমরা জেনে-বুঝেও অনেক সময় বাংলা বানান লেখায় সতর্কতা অবলম্বন করি না। তাই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এসো আমরা বাংলা বানানে মনোযোগী হই। শিক্ষার্থী বন্ধুরা তাই আজ আমরা তোমাদের সাথে বাংলা ব্যাকরণের সমাস নিয়ে আলোচনা করবো ।
সমাস শব্দটির অর্থ মিলন, সংক্ষেপণ, একাধিক শব্দ বা পদকে একপদে পরিণতকরণ ।
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের একপদে মিলিত হওয়াকে সমাস বলে ।
যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন । এখানে সমাস “সিংহাসন”।
বই ও পুস্তক= বই - পুস্তক ।
এখানে সমাস বইপুস্তক।
১। কয়েকটি পদ মিলিত হয়ে সমাস হয় । যে কয়টি পদ মিলিত হয়ে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে এক একটি সমস্যমান পদ বা সমাসপদ বলে। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র । এখানে,“রাজার” এবং “পুত্র” এ দুটো সমস্যমান পদ ।
২। সমাসবদ্ধ বা সমাস সম্পন্ন বা নিষ্পন্ন পদটিকে বলে সমস্তপদ । যেমন: রাজপুত্র ।
৩। সমস্তপদকে ভেঙ্গে যে বাক্যাংশ তৈরি করা হয় , বা যে সব পদে সমাস হয় তার নাম ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য বা সমাস বাক্য বলে । যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন এখানে,”সিংহ চিহ্নিত আসন” কথাটি ব্যাসবাক্য ।
৪। আর সমাস বাক্যের প্রথম পদটিকে বলা হয় পূর্ব পদ , পরের পদটিকে উত্তর পদ বা পরপদ ।
সমস্তপদকে বা সমাসবদ্ধ পদকে বাক্যে পরিণত করলে যে ব্যাক্যাংশ বা বাক্য তৈরি হয় তাকে সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য বলে । যেমন: বিলাত হইতে ফেরত = বিলাত-ফেরত ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম ।
তিন কালের সমাহার= ত্রিকাল ।
উপরের “বিলাত থেকে ফেরত” “নীল যে পদ্ম”, “তিন কালের সমাহার” এগুলো হলো সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য । আর বিলাত-ফেরত , নীলপদ্ম, ত্রিকাল হলো সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্তপদ এবং সমাসবাক্য , ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্যে যে কয়টি পদ থাকে তাদের প্রত্যেকটি পদই এক একটি সমস্যমান পদ । যেমন: উপরের প্রথম বাক্যে “বিলাত হইতে ফেরত” এখানে “বিলাত” একটি সমস্যমান পদ , “হইতে” একটি সমস্যমান পদ এবং “ফেরত” একটি সমস্যমান পদ । একইভাবে “ নীল যে পদ্ম” এই সমাস বাক্যে - “নীল” একটি সমস্যমান পদ “যে” একটি সমস্যমান পদ “পদ্ম” একটি সমস্যমান পদ ।
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার । যেমন: দ্বন্দ্ব , দ্বিগু, কর্মধারয়, তত্পুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি । দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন । আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তত্পুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন । এদিক দিয়ে সমাস চার প্রকার; দ্বন্দ্ব,তত্পুরুষ,বহুব্রীহি,অব্যয়ীভাব ।
সমাসের প্রয়োজনীয়তা:
১ । সমাস ভাষাকে সহজ-সরল করে ।
২। সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে ।
৩। সমাস ভাষাকে সংক্ষেপ করে ।
(সূত্র: ভাষা শিক্ষা ও রচনা সম্ভার -(সম্পাদনায় ) ড. মোঃ জাকিরুল হক মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ( সম্পাদনায় ) ড. গিয়াস শামীম । বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-( রচনায় ) মুনির চৌধুরী ও
মোফাজ্জাল হায়দার চৌধুরী ।)
শিক্ষার্থী বন্ধুরা সমাসের পরবর্তী পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে আমরা আগামী দিনগুলোতে প্রকাশ করবো।
তাই চোখ রাখো ফেইসবুক পেইজে “বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন” গ্রুপে এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনুশীলন পাতায়। আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে।
