ইউরোপের সঙ্গে বোঝাপড়া এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:০৮

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে সমর্থ হলেও বাস্তবে সেটি কার্যকর করার পথে বাধা দূর করতে হবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সুনাককে। শেষে সংসদের অনুমোদনও চান তিনি। 

দীর্ঘ টালবাহানার পর সোমবার অবশেষে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে বিরোধ বন্ধের লক্ষ্যে বোঝাপড়া হলো। ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ড এবং প্রতিবেশী ইইউ সদস্য দেশ আইরিশ প্রজাতন্ত্রের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন সোমবার এই বোঝাপড়া চূড়ান্ত করেন।

‘উইন্ডসর ফ্রেমওয়ার্ক' নামের সেই রফার আওতায় ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ড থেকে শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাজারের জন্য নির্দিষ্ট পণ্য ‘গ্রিন চ্যানেল' দিয়ে যাবে। ফলে সে ক্ষেত্রে নামমাত্র নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হবে। যে সব পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করবে, সেগুলোর জন্য ‘রেড চ্যানেল'-এর মাধ্যমে আগের মতো শুল্ক সংক্রান্ত ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। ইইউ সেই তথ্যভাণ্ডারের উপর নজর রাখতে পারবে। ইইউ পণ্য সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করলে উত্তর আয়ারল্যান্ড ভেটো শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে। বিরোধ দেখা দিলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের আদালতেই নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। একেবারে শেষ উপায় হিসেবে ইউরোপীয় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া যেতে পারে। ফলে একদিকে ব্রিটেনের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রেখেও ইইউ-র সাধারণ বাজারের সুরক্ষা সম্ভব হবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে।

প্রায় তিন দশক ধরে হিংসার পর উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি ফেরাতে ‘গুড ফ্রাইডে' চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্ভবত মিলিত হবেন। তার আগে ইইউ-র সঙ্গে বোঝাপড়া কার্যকর করা সম্ভব হলে সুনাক এক ঢিলে ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করে ব্রিটেনের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পথ প্রশস্ত করতে পারবেন। ব্রিটেনের ব্যবসা-বাণিজ্য জগত সোমবারের বোঝাপড়ার প্রশংসা করলেও সুনাকের সামনে কঠিন রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মাথায় ঋষি সুনাক আপাতত ইইউ-র সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলেও ‘উইন্ডসর ফ্রেমওয়ার্ক' কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার নিজের টোরি দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি অংশ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রিটেন-পন্থি ডিইউপি দলের সহযোগিতা পাবেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে দল ও সরকারের মধ্যে ঐকমত্য অর্জিত না হলে প্রধানমন্ত্রী সুনাক দুর্বল হয়ে পড়বেন। অন্যদিকে ডিইউপি প্রায় এক বছর ধরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সরকারে অংশ না নেবার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে সেই প্রদেশে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চলছে, তাও দূর হবে না। দুই পক্ষই নতুন বোঝাপড়ার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পরীক্ষা করে প্রতিক্রিয়া জানাবার আভাস দিয়েছে। বাকি রাজনৈতিক দলগুলিও সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তার পর সরকার সংসদের অনুমোদনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করবে।

শেষ পর্যন্ত সুনাক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বোঝাপড়া কার্যকর করতে না পারলে শুধু তার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে না, ব্রিটেনের সঙ্গে ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা সে দেশের অর্থনীতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আইরিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার ব্রিটেন ও ইইউ-র মধ্যে বোঝাপড়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, গুড ফ্রাইডে শান্তি চুক্তি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে সেটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

 

 

ইত্তেফাক/এফএস