শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছিলো, তবে বাংলাদেশ ব্যর্থ সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। নাজমুল হোসেন শান্ত যেন একাই লড়ে গেলেন উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে। অন্য প্রান্তে তামিম, মুশফিক বা মাহমুদুল্লাহ আসাহ জাগিয়েও ফিরলেন অল্পতেই। শান্ত তুলে নিলেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। তার ফিফটিতে ভর করেই ৪৭.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করলো ২০৯ রান।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ব্যাটিংইয়ে নেমে বাংলাদেশের পরীক্ষাটা ছিলো জোফরা আর্চার বা মার্ক উডদের পেস-বাউন্সের বিপক্ষে। সেই পরীক্ষায় অধিনায়ক তামিম যেভাবে শুরু করলেন তাতে বেশ ভরসা পেতেই পারতো বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে তিনশ বা তার কাছাকাছি রানের লক্ষ্য দেওয়াই যেন অনায়াসে। তবে সে আশায় গুড়েবালি। এক শান্ত ছাড়া ইংলিশ বোলারদের স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারলেন কেউই।
টাইগারদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবাল বেশ ভালো শুরু করেছিলেন। তবে তার সঙ্গী লিটন দাস এদিন যেন ছন্দই খুঁজে পাননি। তামিম এক প্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং করে রানের চাকা সচল রাখলেও দলীয় ৩৩ রানে গিয়ে ১৫ বলে ৭ রান করেই সাজঘরে ফেরেন লিটন।
তিন নম্বরে নামা শান্তকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন তামিম। তবে পারলেন না বেশিক্ষণ। পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে গিয়ে তামিম কাটা পড়লেন ৩২ বলে ২৩ রান করেই। ১৪৯ কি.মি. গতিতে আসা মার্ক উডের বলটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙে দেয় টাইগার অধিনায়কের স্ট্যাম্প।
চার নম্বরে উইকেটে এসে শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে আশা দেখিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও। তবে দলীয় ৯৫ রানে রশিদের বলে ১৪ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন মুশফিক। ভাঙে মুশফিক-শান্তর ৪৪ রানের জুটি।
দলীয় শতরান পেরোনোর পরই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় টিম টাইগার্স। ১০৬ রানের মাথায় গিয়ে ছত্রখান সাকিবের স্ট্যাম্প। ১২ বলে ৮ রান করেই ফেরেন টাইগার ক্রিকেটের পোস্টারবয়।
এরপর অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়েন শান্ত। এরই মধ্যে ৩১ তম ওভারে ৬৭ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূরন করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ফিফটির পর মনোযোগ হারিয়ে আর বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনিও। ৮২ বলে ৫৮ রান করে রশিদের বলে ফিরে যান শান্ত। ভাঙে মাহমদুল্লাহর সঙ্গে শান্তর ৫৩ রানের জুটি।
শান্ত ফেরার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি মাহমুদুল্লাহও। পরের ওভারেই ফিরে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ফেরার আগে করেন ৪৮ বলে ৩১ রান।
এরপর আফিফ হোসেন আর মেহেদি হাসান মিরাজও ফিরেছেন দুই অংক ছোঁয়ার আগেই। বাংলাদেশ ২০০ রানের নিচেই অলআউট হতে পারতো যদি না শেষের দিকে তাসকিন আহমেদ আর তাইজুল ইসলাম দুটি ছোট তবে কার্যকরী ইনিংস খেলতেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তাসকিন করেন ১৪ রান আর সেশ ব্যাটার হিসেবে ১০ রান করে আউট হন তাইজুল। ইংলিশদের হয়ে আর্চার, রশিদ, মঈন আর মার্ক উড প্রত্যেকে নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।
