তজম্মুল আলী রাজু, বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা
বিশ্বনাথের জনগুরুত্বপূর্ণ রামপাশা-বৈরাগী-সিংগেরকাছ বাজার সড়ক সংস্কারে অভাবে বেহাল। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলাবাসী।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলা প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম ‘রামপাশা-বৈরাগী বাজার-সিংগেরকাছ বাজার সড়ক’। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর ও ছাতক এই তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সড়কের সাথে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেশ কয়েকটি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে সড়কে সংস্কার কাজ করা হয়। কিন্তু সংস্কারের কিছু দিন যেতে না যেতেই ফের সড়কের বিভিন্ন স্থানে কারপেটিং উঠে সৃষ্টি হতে থাকে গর্ত। স্থানীয় রহমাননগর, বৈরাগী বাজার ও কাটলীপাড়া নামক স্থানে সড়কে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে সড়কের এই তিনটি স্থানে বছরের বেশির ভাগ সময়ই জলাবদ্ধতা থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহমাননগর গ্রামের কিছু লোক তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি নালাটি বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এই ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সরকারি নালাটি বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নালাটি পূর্বের ন্যায় খনন করে দেওয়ার দাবিতে বছর খানেক পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় সময়মতো শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীসহ লোকজন তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে গিয়ে পৌঁছতে পারেননি। জরুরি রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে বিপাকে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেহাল এই সড়ক দিয়ে যানবাহনে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছেন ভুক্তভোগীরা।
রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর জানান, সড়কটি যান চলাচলের অযোগ্য। স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাহার বলেন, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটির করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার জরুরি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ড্রপ না করায় আবারও টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সড়কের যেসব স্থানে বড় বড় গর্ত রয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে ভরাট করা হবে।
