ভারতে আনারস রপ্তানি বন্ধ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২১:৩৮

আগাম বাজারজাতকরণে কেমিক্যালে

ফল পাকানোর অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

কেমিক্যালে পাকানো ফল বাজারজাতকরণের দরুন মধুপুরের আনারস ভারতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদে চাষিরা।

দেশের বিশেষ ভৌগোলিক এলাকা মধুপুর গড়ে প্রায় ২৮ হাজার একরে আনারসের আবাদ হয়। শুধুমাত্র মধুপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৩৮০ একর। অবশিষ্ট ১২ হাজার ৬১০ একর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও মুক্তাগাছা এবং জামালপুর সদর উপজেলায় আবাদ হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যে, মধুপুর গড় এলাকার এ পাঁচ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক পরিবার আনারস আবাদ, পরিবহন, বিপণন, প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত।

আনারসের মহাজন হাবিবুর রহমান জানান, মৌসুমের প্রথম আসা ফলের চাহিদা বেশি। দাম ও লাভ দুটোই বেশি। ইদিলপুর গ্রামের আনারস চাষি মফিজ উদ্দীন এবার ৬০ হাজার জলডুগি জাতের আনারস আবাদ করেন। এসব ফল প্রাকৃতিক নিয়মে জুলাই মাসে পাকার কথা। কিন্তু তখন থাকবে আনারসের ভরা মৌসুম। বাজারে বাড়তি সরবরাহের চাপে ফলের দাম থাকবে কম। এজন্য তিনি গত মার্চ মাসে মহাজন আব্দুস ছামাদ ও আব্দুল আজিজের নিকট বাগানের সব আনারস প্রতি পিস ১১ টাকা হারে বিক্রি করে দেন। ওই দুই মহাজন গত এপ্রিল মাসে ইথোপেন ও কার্বাইড জাতীয় কেমিক্যাল স্প্রে করে খেতের কাঁচা আনারস পাকিয়ে বাজারে তোলেন। প্রতিটি ফল গড়ে বেঁচেন পঁচিশ টাকা করে।

 মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর আনারস চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি ফজলুল হক জানান, ইথোপেন ও কার্বাইডে পাকানো আনারস দেখতে সুন্দর ও টসটসে।  কিন্তু খেতে টক। কখনো পানসে। ভেতরের আঁশ দলা পাকানো। বেশি খেলে পেট খারাপ হয়। শরীর ঘামে, মাথা ঘোরে, বমি হয়। তিনি আরো জানান, কেমিক্যাল স্প্রে করে আনারসের আকার বড় করাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু ক্ষতিকর কেমিক্যালে আনারস পাকিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ বড় ধরনের প্রতারণা। জলছত্র বাজারের ফলের আড়তদার সোহেল জানান, ২০১১ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে বেনাপোল বন্দর হয়ে সীমিতভাবে ভারতে আনারস রপ্তানি হতো। কিন্তু কেমিক্যালে ফল পাকানোর বিষয়টি নজরে আসায় এই রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।

মধুপুরে আনারসের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন মহিষমারা গ্রামের উচ্চশিক্ষিত চাষি সানোয়ার হোসেন। তিনি প্রাকৃতিক কৃষির শ্লোগান নিয়ে বিষমুক্ত আনারস আবাদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আনারসের প্রকৃত স্বাদ নেওয়ার জন্য প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে বহু গ্রাহক বাগানে আসেন বিষমুক্ত ফল কিনতে।  তিনি অনলাইনেও আনারস বিক্রির সফল ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন শত শত আনারস দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করছেন। তিনি জানান, অসাধু মহাজন, দালাল, আড়তদার এবং কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট মোকাবিলার জন্য তিনি আনারস চাষ ও বাজারজাত করছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান কেমিক্যাল প্রয়োগে অবাত্তি আনারস পাকানো ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ স্বীকার করে জানান, এসব বন্ধে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। ফল পাকানোতে স্বল্প পরিমাণে ইথোপেন ব্যবহার তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কার্বাইড খুবই ক্ষতিকর