সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার প্রতারণা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩, ২২:০৭

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে হাসান আলী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছৈয়দ আলম নামে এক ভুক্তভোগী ঈদগাঁও থানায় প্রতারণার মামলা করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ছৈয়দ আলম থানায় মামলা করেছেন। 
 
অভিযুক্ত হাসান আলী উপজেলার ধর্মেরছড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা। 

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার গোমাতলী মৌজায় হাফেজের ঘোনা নামের ২৪০ একরের চিংড়ি ঘের রয়েছে। এই ঘের নিয়ে কৈলাশের ঘোনা নামক আরেকটি ঘেরের মালিকদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ঘের কমিটির সদস্যরা তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অভিযুক্ত হাসান আলীর দ্বারস্থ হয়। হাসান আলী তখন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপারকে ম্যানেজ করতে হবে বলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেয়। 

মামলার বাদী ছৈয়দ আলম বলেন, ওসি গোলাম কবির উভয়পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তখন ওসি বলেন তার নাম করে কেউ যেন টাকা পয়সা না নিতে পারে বা কাউকে না দেওয়া হয়। তখন ঘের কমিটির সদস্যরা বুঝতে পারে হাসান আলী সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না দেওয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত হাসান আলী ছাত্রজীবনে জমি দখল, সার, লবণ পাচার ও বন কর্মকর্তাদের রাইফেল ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত ছিলো। একসময় তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মনজুর আলমের হাত ধরে ২০১৮ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পেয়ে শুরু করেন প্রতারণা কাণ্ড। সরকারি খাস ও বনের জমি দখল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ বলেন, হাসান আলীর বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার প্রতারণার বিষয়ে জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম কবির বলেন, অভিযুক্ত হাসান আলীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও