ট্রাই নেশন ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে সিলেটে, ২০-২৮ মার্চ। ব্রুনাই (১৯০), সিশেলস (১৯৯) এবং বাংলাদেশ (১৯২) খেলবে এই টুর্নামেন্ট। ফিফার র্যাংকিংয়ে তিন দেশের অবস্থান উনিশ-বিশ। এই দুই দেশের বিপক্ষে খেলতে জানপ্রাণ বাজি রেখে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর এই জন্য সৌদি আরবে গিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প করবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিদেশের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে আসলেই প্রতিপক্ষকে ফুঁ মেরে উড়িয়ে দেবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। জাতীয় দলের ফুটবলারদের মান নেই। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন সেদিনও বলছিলেন ৬০ ভাগ ফিটনেস নেই।
এই ফুটবলারদের দিয়ে জাতীয় দল গঠন করতে হয়। তাদেরকে অনুশীলনের জন্য বিদেশের মাঠে পাঠাতে হবে। এই আবদার দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। চাইলেই কেন পাঠাতে হবে, এমন উঠলেও বাফুফে ঝুঁকি নিতে চায় না। কোচ প্রয়োজন মনে করেছে তাই বাফুফেও সেটি করছে। তারা যুক্তির টেবিলে বসেন না। যেখানে লিগের খেলা, ফেডারেশন কাপের খেলা একসঙ্গে চলেছে। খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই ছিল। বিদেশে নিয়ে গিয়ে কী এমন পরিবর্তন আনবেন স্প্যানিশ কোচ তা বুঝা কঠিন। বিদেশি কোচদের নানা আবদার মেটাতে হয়। একটা জাতীয় দল বিদেশের মাঠে প্রস্তুতি নেবে এটা বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় দলের ফুটবলার যে পারফরম্যান্স তা কি কোনো দর্শককে নাড়া দেয়। অতীতেও বাফুফে সভাপতি সালাহউদ্দিন কাতারে নিয়ে দামি দামি হোটেলে রেখেছিলেন ফুটবলারদের। উন্নতমানের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা দিয়েও ফলাফল শূন্য।
সালাহউদ্দিন এই ফুটবলারদের সামনে বহুভাবে মিনতি করে বলেছেন, ‘তোমরা একটা রেজাল্ট দাও। দেশের মানুষ খুশি হবে। আমরাও সবার সঙ্গে কথা বলতে পারি। স্পন্সর রেজাল্ট চায়।’ কোনো লাভ হয়নি। দর্শকের মুখে হাসি ফোটাতে পারেননি এই ফুটবলাররা। নিম্নমানের দল এনেও দিয়েছেন তিনি। সমালোচনা হয়েছে, সালাহউদ্দিন সমালোচিত হয়েছিলেন। সব মুখ বুজে সয়ে গেছেন মাঠের রেজাল্ট পাবার আশায়। তার পরও ফায়দা তুলে নিতে পারেননি জামাল ভুঁইয়ারা। ফিফা প্রীতি ম্যাচের বদলে তিন জাতি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বাফুফে। র্যাংকিংয়ে এখানেও সমমানের দল। তার পরও যদি ভালো কিছু করতে পারে জামাল ভুঁইয়া, সোহেল রানা, মতিন মিয়া, রাকিব, ইব্রাহিমরা- সেই আশায় কোচের আবদার রাখতে সৌদি আরবে অনুশীলন ক্যাম্প করতে পাঠাতে হচ্ছে। কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা বলেছেন, আগামীতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। সেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য সিলেটের টুর্নামেন্ট পারফেক্ট।
২৭ ফুটবলারর ক্যাম্প ঢাকা হয়েছে। আগামী ৫ অথবা ৬ মার্চ অর্ধেক ফুটবলার সৌদি আরবে মদিনায় চলে যাবেন। অর্ধেক যাবে দ্বিতীয় ধাপে। মদিনা থেকে ফিরবেন ১৭ মার্চ। সিলেটে যাবেন এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে দল ডাকা হয়েছে।
