মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

গাফিলতিতে ৪৭ লক্ষাধিক টাকা অনাদায়, ঋণখেলাপি হলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ১৪:১৬

গোপালগঞ্জে ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ঋণখেলাপি হয়েও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা।

ইসলামী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক এ এইচএম গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর গোপালগঞ্জের ছয় ইউনিয়নে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার জন্য আমার কাছে অফিসারদের নামের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠান সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজিব আহমেদ এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। সেই কারণে চলতি বছর ৩০ জানুয়ারি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে চিঠি দিয়ে জানাই নাজিব আহমেদ আমাদের ব্যাংকের ঋন খেলাপি। ওই অফিসের পক্ষ থেকে চিঠি নিয়ে আমাদের রিসিভ কপি দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের আগে আমাদের চিঠি দিয়ে উপস্থিত থাকতে বলার বিধান রয়েছে। কিন্তু বলা হয়নি। পরে লোকমুখে জানতে পেরে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের দিনে ২০ ফেব্রুয়ারি নাজিব আহমেদ আমাদের ব্যাংকের ঋন খেলাপি জানিয়ে ফের উপজেলা নির্বাচন অফিসে চিঠি দেই। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাসেদুল ইসলাম এটি গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজিব আহমেদ হলফ নামায় খেলাপি ঋনের তথ্য গোপান করে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আমরা অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা না দেখারভান করে ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এইচএম গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর ঋন খেলাপি চেয়ারম্যান প্রার্থী জমিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ নির্বাচন অফিসের গাফিলতির কারণে আমরা ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ১২৩ টাকার খেলাপি ঋন আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক বরাবর আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেদুল ইসলাম বলেন, ৩০ জানুয়ারি ওই ব্যাংকের প্রথম চিঠি রিসিভ করি। তখনও এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ হয়নি। তাই চিঠির কার্যক্রম থেমে যায়। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় আমি ইসলামী ব্যাংকের আরও একটি চিঠি রিসিভ করি। সকাল ১০ টায় প্রার্থীদের যাচাই বাছাই হয়ে গেছে জানিয়ে এই চিঠি দিতে আসা ব্যাংকের লোকাদের রিটার্নিং অফিসার শেখ বদরুদ্দিনকে দিতে বলি। কিন্তু তারা সেখানে চিঠি দেয়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার শেখ বদরুদ্দিন বলেন, এই সংক্রান্ত ইসলামী ব্যাংকের কোনো চিঠি আমার কাছে আসেনি। তাই ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। তার মনোয়নপত্র বাতিলের সুযোগ নেই।

গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল মোল্লা বলেন, এই জেলার ইউপি নির্বাচনের নির্বাচন কমিশন আমাকে আপিল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়েছে। ঋন খেলাপির দায়ে রিটার্নিং অফিসাররা যাচাই বছাইয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তারপর তিন কার্য দিবসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। তারা আমার কাছে আপিল করেন। জনতা ব্যাংক, বিআরডিবি, যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরসহ অন্যন্য দপ্তরের ঋনের টাকা পরিশোধ করার পর তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ইসলামী ব্যাংক আমার কাছে আবেদন করেনি। আবেদন করলে তাদের টাকাও আদায় হত।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাই বাছাই হয়েছে। এখন নির্বাচনী প্রতিক বরাদ্দ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় আমার কাছে অভিযোগ করেছে। আমি এটির আপিল কর্তৃপক্ষ নই। এই ব্যাপারে ব্যাংক নির্বাচন কমিশনে যেতে পারে

চেয়ারম্যান প্রার্থী ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাজিব আহমেদ বলেন, যে ঋন খেলাপি হলে নির্বাচন করা যায় না। আমি সেই ঋন খেলাপি নই। আমি নির্বাচনী আইন মেনে প্রার্থী হয়েছি। তাই বিধি মোতাবেক রিটার্নিং অফিসার আমার মোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।

 

ইত্তেফাক/আরএজে

 

ইত্তেফাক/আরএজে