নোয়াখালীর পৃথক দুই স্থানে ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৪

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:২০

নোয়াখালীতে পৃথক দুই স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের দুটি মিছিলের পৃথক ঘটনায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার উপজেলার এওজবালিয়া, কালাদরাপ এলাকা থেকে ৬ জন এবং এর আগে বিকেলে পৌরসভা এলাকা থেকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিক্ষোভ মিছিলে অর্থদাতাদের একজন এওজবালিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম রয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুধারাম মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মুকিব হাসান বলেন, মিছিলের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিদের আদালতে সোপর্দ  করা পর আদালত তাদের  কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ  দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিগত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী (পরাজিত) আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে  শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে  স্থানীয় বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় মিছিলকারীরা  শেখ হাসিনার পক্ষে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘মব, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে  বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর বিকেলে শহরের পৌর বাজার এলাকায় কিশোর গ্যাং দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলে করতে চেষ্টাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ১৮ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল ও নোয়াখালী পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আনাসসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ বলেছে, ওই ঘটনায় ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে বিকালে এই কর্মসূচির আগে দুপুর থেকেই সংগঠনটির কয়েকশ নেতাকর্মী বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষোভ চলাকালে বাজার এলাকায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলে তারা তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সরে পড়তে বাধ্য হন। ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে সুধারাম থানার  ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে ৬ জন পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্ধারিত সময়ে জুমার নামাজের পর  তাদের কর্মসূচি পালন করেনি। পুলিশ সদস্যরা মিছিল হবে না ভেবে থানা মুখী হওয়ার সময় বিকেল ৪টার দিকে তারা মিছিল করে। বাধেঁহাট ও পৌর বাজারের এই দুইটি ঘটনায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এপি