শামীম হামিদ, নটিংহ্যাম (ইংল্যান্ড) থেকে
নটিংহ্যাম শহরের আরেকটি নাম রয়েছে। একে বলে ‘রবিনহুডের শহর।’
রবিনহুড আসলে একটি কাল্পনিক চরিত্র; যে ডাকাত হয়েও দরিদ্রের বন্ধু ছিল। কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে তিনি একটি দল গঠন করেছিলেন। এই দলের কাজ ছিল ধনীদের কাছ থেকে ধনসম্পদ ছিনিয়ে এনে দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করা। দলটি বসবাস করত নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড জঙ্গলে। রবিনহুড মধ্যযুগীয় ইংরেজি সাহিত্যে জনপ্রিয় এক চরিত্রে পরিণত হন।
এই রবিনহুডের শহরেই এবার বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হচ্ছে। ভেন্যুর নাম ট্রেন্ট ব্রিজ কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। আজ বৃহস্পতিবার এ মাঠের চতুর্থ ও সর্বশেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
এ মাঠের কিছু তথ্য এখানে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। যুক্তরাজ্যে তৃতীয় বৃহত্তম নদীর নাম ট্রেন্ট যার দৈর্ঘ্য ২৯৮ কিলোমিটার। ট্রেন্ট একটি সেলটিক শব্দ, যার অর্থ ‘প্রচণ্ড বন্যাপ্রবণ’। এ বন্যাপ্রবণ নদীর তীরে নটিংহাম শহরে ট্রেন্টব্রিজ কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের অবস্থান। ১৮৩৮ সালে এ মাঠ প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রথম টেস্ট ম্যাচ হয় ১৮৯৯ সালে। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলাও হতো এখানে। নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব ও নটস কাউন্টি ফুটবল ক্লাব যৌথভাবে এর মালিক হলেও পরবর্তীতে ফুটবল ক্লাবটিকে অন্যখানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্যারি সোবার্স, রিচার্ড হ্যাডলি, ক্লাইভ রাইসের মতো ক্রিকেটাররা এই মাঠে অনেক স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৬৫ সালে গ্রায়েম পোলক ও পিটার পোলকের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা এ মাঠে অসাধারণ জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচে গ্রায়েম পোলকের করা সেঞ্চুরিটি এখনো কোনো দক্ষিণ আফ্রিকানের করা সেরা শতরানের ইনিংস বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ১৯৮৯ টেস্টে ইংলিশ বোলারদের এখানেই নাকানি চুবানি খাইয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্ক টেলর ও জেফ্রি মার্শ। প্রথম দিনশেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৩০১ রান। এরকম অনেক স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে ট্রেন্ট ব্রিজ।
বন্যাপ্রবণ দেশ হয়েও বাংলাদেশের জন্য নটিংহ্যামের এ মাঠে কোনো সুন্দর স্মৃতি নেই। এর আগে এখানে দুটি ওডিআই ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। দুটিতেই প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। ২০০৫ সালে ১৬৮ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে স্ট্রস ও কলিংউডের জোড়া সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড ৩৯১ রান সংগ্রহ করে। নাজমুল ৮৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। আশরাফুলের ৯৪ ও জাবেদ ওমরের ৫৯ রান সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২২৩ রানে। ২০১০ সালের পরাজয়টি ছিল ৬ উইকেটে।
বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে রকিবুল হাসানের ৭৬ ও জুনায়েদ সিদ্দিকীর ৫১ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ২৫০ রান করে। ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচের ৫ বাংলাদেশি ক্রিকেটার চলতি বিশ্বকাপ টিমেও আছেন। এরা হলেন, সাকিব, মুশফিক, তামিম, রিয়াদ ও মাশরাফি। ৯ বছর আগের সেই ম্যাচে তামিম, মুশফিক ও সাকিবের স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৮, ২২ ও ২০। সাকিব ২টি উইকেটও নিয়েছিলেন। ট্রেন্ট ব্রিজ আরেকটি কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। ২০০৯ সালে এ মাঠের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। ঐ ম্যাচে ভারত ২৫ রানে জিতেছিল।
