শান্তিপূর্ণভাবে পুনরেকত্রীকরণের প্রস্তাব চীনের, তাইওয়ানের প্রত্যাখ্যান

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৪

তাইওয়ানকে শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের’ প্রস্তাব দিয়েছে চীন। গতকাল রবিবার চীনের বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রয়োজনে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। চীনের এমন অবস্থানের জবাবে তাইপে তাইওয়ানের জনগণের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা রয়েছে তা সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে লি কেকিয়াং বলেন, যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমেই তাইওয়ান পুনরুদ্ধার করবে চীন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই আবার এক হয়ে যাবে দুই ভূখণ্ড। এজন্য যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। তবে তাইওয়ান যে স্বাধীন ভূখণ্ড নয়, এই অবস্থানে অনড় থাকতে হবে বলে বার্তা দেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সর্বময় কর্তা লি কেকিয়াং। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন পরেই রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চলেছেন কেকিয়াং। তার পদে বসতে চলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চীনা পার্লামেন্টের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তাইওয়ান প্রসঙ্গ তোলেন কেকিয়াং। তার মতে, তাইওয়ান নিয়ে আমাদের দলের যা অবস্থান, সরকারকেও সেই অবস্থান নিতে হবে। তবে যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই দুই ভূখণ্ড আবার এক হয়ে যাবে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা মেটাতে চাই আমরা। তিনি বলেন, চীনের সশস্ত্রবাহিনীর উচিত, যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো। তবে লি কেকিয়াং তাইওয়ানের প্রতি কোনো ধরনে সামরিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেননি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দাবি করে আসছে চীন। পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে একাধিক বিষয় নিয়েই তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে বেইজিং। যদিও সেই বাধা উড়িয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে তাইওয়ান। চীনের অধীনে থাকবে না তাদের ভূখণ্ড, এমনটাই বলেছেন প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। চীনা প্রধানমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তাইপে। তাইওয়ানের চীন বিষয়ক ডেস্ক মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল চীনা প্রধানমন্ত্রীর  মন্তব্যের জবাবে বলেছে, চীনের দুই রাষ্ট্র সমাধান মেনে নেওয়া উচিত এবং দেশটির মনে রাখা প্রয়োজন যে, তাইওয়ান প্রণালিতে কোনো দেশই কারো অধীন নয়।

সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে চীন

২০২৩ সালের জন্য ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। মহামারি বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি নিজেদের পুনরুদ্ধার করতে চায়। পাশাপাশি বাড়িয়েছে সামরিক বাজেটও। গতকাল চীনের আইনসভা এনপিসিতে বার্ষিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হলের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন ৩ হাজার প্রতিনিধি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লি কেকিয়াং চলতি বছরের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এনপিসি উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রকাশিত একটি খসড়া বাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে ২২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক বছরে চীন সামগ্রিক খাতে ব্যয় বাড়ালেও এই হার দুই অঙ্কের ঘর ছাড়ায়নি। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গত বছর চীন খরচ বাড়িয়েছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। —সিএনএন ও বিবিসি

ইত্তেফাক/ইআ