প্লাস্টিক দ্রব্য ও পরিবেশ দূষণ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২২:০০

পরিবেশ মানবজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি বিষয়। আমরা সকলেই পরিবেশকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকি এবং বিনিময়ে পরিবেশকে দূষিত করি। বেঁচে থাকার স্বার্থে আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করে চলছি, আর ধ্বংস করতে যাচ্ছি স্রষ্টার সৃষ্ট প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য।

 সাম্প্রতিককালে পরিবেশ দূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্লাস্টিক বর্জ্য। আমরা প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক ব্যবহার করছি এবং পরিবেশকে দূষিত করছি। সত্য বলতে, প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন কাজে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্লাস্টিকের সাহায্য ছাড়া জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব মনে হতে পারে। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির মুখে দেওয়া চুষনি, দুধের বোতল থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন খাবার প্লেট, জগ, গ্লাস, থালা, বাটিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় জিনিসই তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। কিন্তু এই প্লাস্টিক পরিবেশের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা কী আমরা ভেবে দেখেছি?

আমরা প্রতিদিন অতি ন্যূনতম কাজেও প্লাস্টিক ব্যবহার করি এবং প্রয়োজন শেষে তা ফেলে দেই। আমাদের ব্যবহূত এই প্লাস্টিক পদার্থগুলোই পর্যায়ক্রমে বর্জ্য আকারে পরিবেশ দূষণ করছে। আমাদের চারপাশে একটু ভালো করে দৃষ্টি রাখলেই প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দূষিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি অহরহ দেখতে পাব। প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে দেশের শহুরে এলাকাগুলো। বলতে গেলে গোটা দেশে এমন কোনো নগর-মহানগর খুঁজে বের করা সত্যই দুরূহ হবে যেখানে কি না প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না!

দেশের প্রতিটি মহানগর এলাকা দিয়ে বয়ে চলা নদীগুলোর দুরবস্থা আমাদের সহজেই চোখে পড়ে। নদীগুলো যেন গোটা নগরের ডাস্টবিন! আর সেই ডাস্টবিনরূপী নদীগুলো বহন করে চলছে বিষাক্ত প্লাস্টিক বর্জ্যর স্তূপ। আমাদের পরিবেশের এক বিরাট অংশ আজ প্লাস্টিক দূষণের শিকার। কৃষকের চাষ করা জমিটাতে মিশে আছে প্লাস্টিক বর্জ্য, মাছ চাষের পুকুরটাতে ভেসে আছে প্লাস্টিক বর্জ্য, পথচলার রাস্তাটুকু ভরে আছে প্লাস্টিক বর্জ্যে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছেয়ে আছে প্লাস্টিক বর্জ্য! ফলে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষিত হচ্ছে আর মানবজীবনকে পোহাতে হচ্ছে গভীর ক্লেশ।

প্লাস্টিক সত্যই পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মাটি ও পানি, প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক স্টিরিন্ নামক ক্ষতিকর পদার্থ নির্গত করে যা মানবদেহে তৈরি করতে পারে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি। মোটকথা, প্লাস্টিক পদার্থটি কস্মিনকালেও পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য উপকারী নয়। বরং এর ব্যবহারে পরিবেশ যেমন ভয়াবহ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানব অস্তিত্বও পড়তে চলছে ঘোর বিপাকে।

তাই, পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে প্লাস্টিক দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহারে আমাদের সবাইকে ত্যাগ করতে হবে এবং ব্যবহূত প্লাস্টিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলে এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক যে আমরা যত দ্রুত প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বিষয়ে নিজেদের সচেতন করে তুলব, তত শিগগিরই একটি প্লাস্টিক দূষিত পরিবেশ থেকে নিজেদের মুক্ত করে নেব।

n লেখক :শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট