সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত কমিটি গঠনের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২২:০১

সারাদেশে আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ সকল শাখা ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে সংশ্লিষ্ট শাখায় এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটিতে নিজের লোক না খুঁজে, দলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের স্বীকৃত সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে পাঁচটিরই কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ নেই। কয়েকটি কমিটি চলছে সাত বছর ধরে। এদিকে আগামী অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলন আয়োজনে চলছে জোর প্রস্তুতি। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সম্মেলনের আগেই এসব সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের তাগাদা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিন বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে যুবলীগের চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হন হারুন অর রশিদ। এদিকে ঐ বছরেরই মোল্লা মো. আবু কাওসারকে সভাপতি ও পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়। সেই হিসাবে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ কমিটি টিকে আছে সাত বছর ধরে।

একই অবস্থা সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগেও। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের কমিটির মেয়াদও পেরিয়ে গেছে বহু আগে। এর বাইরে ২০১৭ সালের ৪ মার্চ মহিলা আওয়ামী লীগ, ১১ মার্চ যুব মহিলা লীগ ও ১৯ মার্চ তাঁতি লীগ—এই তিনটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বছরে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়নি। ১৩ বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। ঢাকা মহানগর যুবলীগ ও কৃষক লীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোকে আমরা ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। শুধু সহযোগী সংগঠন নয়, আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা শাখা সংগঠনের যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরও সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়েছি। কমিটিতে পছন্দের লোক না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক খুঁজবেন না, দলের লোক খুঁজবেন। সবাই আওয়ামী লীগের, দলের নেতা-কর্মীদের অবহেলা করবেন না।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের জন্য আটকে আছে’ —বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি কেবল আদালতই দিতে পারেন। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আভাস দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, কাদের খান, কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিলউদ্দিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা।