রাজশাহীতে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩, ১৯:০৪

রাজশাহীর উপশহর মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে মহানগরের সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন সুলতানা নামে এক শিক্ষক এ অভিযোগ করেন। 

নাসরিন সুলতানা বলেন, উপশহর মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০০০ সালের ৮ এপ্রিল যোগদান করেন। এরপর দিন ৯ এপ্রিল যোগদান করেন আরেক শিক্ষক শাফিয়াজ আখতার বানু। এমপিওভুক্ত হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দু’জনের পরিবর্তে একজন শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে যিনি আগে যোগদান করেছেন তাকেই রাখার সিদ্ধান্ত হলেও শাফিয়াজ বানুকে নিয়োগ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, শাফিয়াজ বানুর যোগদানের তারিখ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিলের পরিবর্তে কারচুপির করে ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর দেখায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

এ বিষয়ে নাসরিন সুলতানা ২০২০ সালে উচ্চ আদালতে রিট করেন। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত রুল জারি করেন ও অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজের ১৪ জন প্রভাষকের নাম উল্লেখ থাকলেও ১৩ জন প্রভাষকের নিয়োগ এবং যোগদান পত্র রয়েছে। ওই ১৩ জনের মধ্যে নাসরিন সুলতানার নিয়োগ এবং যোগদানপত্রও রয়েছে। তবে শাফিয়াজ আখতার বানুর যোগদান পত্র কলেজের নথিতে পাওয়া যায়নি। 

উপশহর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কলেজের নথিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম শিক্ষক শাফিয়াজ আখতার বানু। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন আরেক শিক্ষক নাসরিন সুলতানা। আদালত শিক্ষা বোর্ডকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বোর্ডের তদন্তে নাসরিন সুলতানাকে প্রথম শিক্ষিকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত যে রায় দিবেন সে অনুসারেই কাজ করা হবে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও