রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্ত্রী যুথি খাতুনকে হত্যার চারদিন পর তার স্বামী জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাশের চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জহুরুল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন জহুরুল। এ সময় তাদের দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামানো নিয়ে স্ত্রী যুথি বেগম (৩০) এর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে এসে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক কর্মী তাদের বাড়িতে গালমন্দ করে গিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে জহুরুল ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে যুথিকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীকে হত্যার পর জহুরুল বাড়ির পাশের খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
জহুরুলের ভাই রুহুল হোসেন জানান, তাদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। মাঝেমধ্যে এনজিওর কর্মীরা বাড়িতে এসে ঋণের বিষয়ে কথা বলতেন। ঘটনার আগের দিন যুথি তার নানার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ভালো ছিল বলে জানান তিনি।
রুহুল হোসেন আরও জানান, তার ভাইয়ের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স সাত বছর, আর ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের দেড় বছর। তবে জহুরুল এভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
বাঘা থানার ওসি সিরাজুল হক বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা পুলিশের দায়িত্ব। নানা প্রচেষ্টা খাটিয়ে ঘটনার চারদিন পর অবশেষে জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জহুরুল।

স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী বলল, ‘আগে-পিছে আর কেউ নেই, আমি মুক্ত’