৮ মার্চ নারী দিবস। এ দিনটি নারীর একান্ত নিজের। নিজের আবেগ-অনুভূতি-অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকে বিশেষভাবে উদযাপনের সুযোগ তৈরি হয়। অবশ্য এ দিনে নারীর কর্মব্যস্ত জীবন ঠিকই থাকে। তবু একটা সুযোগ আছে হাফ-অফিস করে কিংবা নিজেকে ভ্রমণের মাধ্যমে চাঙা করার। ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেকে সময় দেয়ার সুযোগ আসে। কিন্তু নগরবন্দি জীবনে তা কি সম্ভব? সম্ভব তো বটেই। বিশেষত আপনি যদি ঢাকার বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ঘরের কাছেই তো ঘোরার কত সুযোগ। রবিবাবু ভুল বলেন নি, অনেক বিদেশ ঘুরে নানা দেশ ঘুরতে পারলেও নিজের বাড়ির কাছটাই দেখা হয় না। নারী দিবসেও কি আপনার উচিত নয়, এই সীমাবদ্ধতাকে শনাক্ত করে নতুন আয়েশে বাঁচার? আর সে সম্ভাবনাকে দেখার জন্যই ঢাকায় ও আশপাশের কিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসতেই পারেন। আমরাই দেখিয়ে দিচ্ছি জায়গাগুলো।
চারিদিকে কোলাহল অবাক টিএসসি
নারী দিবসকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে নানা আয়োজন। অনেকেই একা একা কোথাও ঘুরতে যেতে চান। কিন্তু কোলাহল ছাড়া একা ঘুরে আনন্দ আর কোথায়। সেজন্য যেতে পারেন টিএসসি। টিএসসি এমন একটি জায়গা যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বিচ্ছিন্ন ব্যস্ততা মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। নারী দিবসে অফিস শেষে বিকেলের দিকে টিএসসি চলে আসুন। কনসার্ট বা অন্য আয়োজনগুলো ঘুরে দেখুন। প্রয়োজনে বন্ধু বা প্রিয়জনকে ডাকুন। ঘুরে চা খান, ফুচকা খান, অথবা রাস্তায় সাজিয়ে রাখা চুড়ি কিনুন। উপভোগ করুন ডে ট্রিপটি নিজের মতো করে।
লালবাগ কেল্লার স্বাভাবিক ডে ট্রিপ
লালবাগের কেল্লা পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত মুঘল সাম্রাজের এক অসমাপ্ত প্রাচীন দুর্গ, যা বর্তমানে জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন। লালবাগ কেল্লায় রয়েছে প্রাচীন তিন গম্বুজ মসজিদ, যা দৃষ্টি কাড়ে সবার। রয়েছে পরীবিবির চতুষ্কোণ সমাধি। স্থাপনাটির ভেতরে রয়েছে সাদা মার্বেল পাথরের ফুল, পাতা এবং বিভিন্ন নকশা করা কষ্টিপাথরের ট্যালি। লালবাগ দেখতে অবশ্যই ২-৩টার মধ্যে উপস্থিত থাকা ভালো। যদি সুযোগ হয় তবে লালবাগ কেল্লাতে কজন বান্ধবী মিলে ঘুরে আসুন। এখানে বর্ণিল সাজে ঠিকই ছবি তোলার উপলক্ষ পাবেন।
শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সঞ্জীবনী শক্তি
ঢাবি টিএসসি ঘুরে আসতে পারলে শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতেও একবার ঢু মারতে পারেন। এখানে নারী দিবস উপলক্ষে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চিত্রকর্মের প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। নাগরিক ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই মঞ্চনাটক দেখার সুযোগ পাই না। বাংলা মঞ্চনাটকে নারী সবসময় একটি বড় শক্তির আঁধার। নারী দিবসে মঞ্চনাটক আপনায় উচ্ছ্বসিত করবে, নাড়া দেবে। শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বিকেলটি আপনার অনেকদিন মনে থাকবে।
মেঘনার পারে অতঃপর অপরাহ্ণ
ঢাকার যান্ত্রিকতা জীবন ক্লান্তকর করে তোলে। কিন্তু শহরের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নারী দিবসে যদি ছুটি নেয়ার সুযোগ হয় কিংবা দিনটি উপলক্ষে কোথাও ঘোরার পরিকল্পনা করেন তাহলে চলে যান পানাম নগরে। পৃথিবীর ১০০ টি ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। এখানে কয়েক শতাব্দীর পুরনো ভবন রয়েছে। সেই সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে মেঘনা নদীটিও। ঢাকার খুব কাছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁতে অবস্থিত পানাম নগর। যাত্রাপথটাও বেশ সহজ।
মহেরা জমিদার বাড়িতে একদিন
ডে ট্রিপের কথা মাথায় আসলে ঢাকার কাছে টাঙ্গাইলের কথা ভাবতেই হবে। টাঙ্গাইলে ডে ট্রিপের জন্য বহু জায়গা রয়েছে। তারমধ্যে মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর বলে মনে করেন অনেকে। মোটে তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি জমিদার বাড়িটি। বাড়ির ভেতরদিকে বিরাট খাঁচায় তিন ধরনের পাখি পালা হয়। স্থাপনাগুলোতেও অসাধারণ কারুকার্য করা। আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। নারী দিবসে সেজন্য খুব ভোরে রওয়ানা হয়ে যাবেন টাঙ্গাইলের দিকে। পুরো দিনটাই আপনার হবে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
একসময় সবার ডে ট্রিপের উপলক্ষ চিড়িয়াখানা হলেও এখন সবাই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কথাই ভাবেন। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়াও এখানে রয়েছে পাখি শালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন আরো অনেক বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর সমারোহ। এখানে একা একা ঘুরতে গেলে মন্দ লাগবে না। অনেকেই দলবেঁধে ঘুরাঘুরির পক্ষে না। তাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক একটি আদর্শ জায়গা।
বৈচিত্র্যময় নিকলী হাওড়
ডে ট্রিপের জন্য উপযুক্ত জায়গা নিকলী হাওড়। খোলামেলা পরিবেশে স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড় থেকে । ঢাকা থেকে বাইক নিয়ে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ শহরে। সেখান থেকে নিকলি ঘাট । ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখুন হাওড়। মনে রাখবেন, বর্ষার শেষ দিকে হাওর ভ্রমনের উপযুক্ত সময়। বাইক নিয়ে গেলে হাওরের পাশে বাইক রেখে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন। তবে নিকলী হাওড় যেতে চাইলে খুব সকালে রওনা ঢাকা থেকে রওনা হতে হবে।
গাজিপুরে আরেক বিল, বেলাই বিল
গাজিপুরের চেলাই নদীর সঙ্গেই বেলাই বিল। ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা সর্বক্ষণ বিলের বুকে যাতায়াত করে। সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিলে বিলের চারপাশের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। বিকেলবেলা যেন অদ্ভুত এক মায়া এ বিলে কাজ করে। চারদিকে শাপলার ছড়াছড়ি। বাতাসের ঝাপসা কেমন মৃদু। নারী দিবসে মা, খালা কিংবা বোনকে নিয়ে আসতে পারেন। সঙ্গে আনবেন বাসায় তৈরি করা খাবার। দিনটি মন্দ কাটবে না এটুকু নিশ্চিত।
