রাজধানীর সিদ্দিকবাজারে ৭ তলা ভবনে বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনও বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ধারণা করছে, পাঁচ কারণে ঘটতে পারে এ বিস্ফোরণ।
বুধবার (৮ মার্চ) দুর্ঘটনাকবলিত ভবন পরিদর্শন করেছে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। আহত ও নিহত হওয়ার ধরন দেখে তারা ধারণা করছে, ভবনের বেসমেন্টের বদ্ধ কোনো কক্ষে গ্যাস জমে সেটি ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়েছিল। সেখানে যে কোনো উপায়ে স্পার্ক (আগুনের স্ফুলিঙ্গ) হওয়ার পরই বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পাঁচটি উপায়ে গ্যাস জমতে পারে বলে মনে করছে তারা।
সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল যে পাঁচ কারণে গ্যাস জমতে পারে বলে ধারণা করছে সেগুলো হলো- ভবনের মাটির নিচে পানির ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে পারে; দুটি ভবনের মাঝখানে থাকা সেপটিক ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে পারে; বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনো গ্যাসের লাইন থেকে গ্যাস জমতে পারে বা দেয়ালে মিথেন গ্যাস জমে থাকতে পারে; পয়োনিষ্কাশন লাইনের পাইপ লিকেজ হয়ে গ্যাস জমতে পারে এবং ভবনে থাকা বড় জেনারেটর থেকেও কোনোভাবে গ্যাস জমতে পারে।
সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যেকোনো উপায়েই হোক ভবনের আবদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমেছিল। সেখানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো উপায়ে স্পার্ক থেকে ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গুলিস্তানে বিআরটিসির বাস কাউন্টারের কাছে সিদ্দিকবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। এদিকে, ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
