সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে যুবরাজ বিন সালমানকে তদন্তের মুখোমুখি করারও জোর সুপারিশ করা হয়েছে। খাশোগি হত্যায় ১১ জনের বিচার চলছে সৌদি আরবে। এদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুদন্ড চেয়েছেন সরকারি আইজীবীরা। চলতি সপ্তাহে যুবরাজ বিন সালমান খাশোগি হত্যাকান্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার না করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর বিবিসির
কী বলছে জাতিসংঘ
তদন্তের পর জাতিসংঘ বলছে, সাংবাদিক খাশোগি হত্যাকান্ডের জন্য সৌদি সরকার দায়ী। জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপারচিউর অ্যাগনে কাল্লামার্ড বলেন, হত্যায় সৌদি যুবরাজ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে আরো তদন্তের জোর সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে যে যুবরাজসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে খাশোগি হত্যায় জড়িত। রিপোর্টে খুব স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, খাশোগিকে সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে এবং এর দায় সৌদি রাষ্ট্রের। জাতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, কে বা কারা এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা কার্যকর করেছেন তা খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো রাষ্ট্রের পক্ষে তারা সেই কাজ করেছেন। খাশোগি হত্যায় যুবরাজসহ সৌদি সরকারের আরো ক’জন ক্ষমতাবান ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ভূমিকা তদন্তের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তারা পেয়েছেন। যেভাবে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে সেটাকে নির্যাতন বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। আরো বলা হয়েছে, হত্যাকান্ডের তদন্তে তুরস্কের প্রয়াসকে সৌদি আরব বাধাগ্রস্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ
খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি আরবের বিচার প্রত্যাখান করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, এই হত্যাকান্ড একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং বিচারের অধিকার কেবল সৌদি আরবের নয়। হত্যাকান্ড তুরস্কে সংগঠিত হওয়ায় এবং খাশোগি মার্কিন বাসিন্দা হওয়ায় বিচার করার অধিকার তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রেরও রয়েছে।
