ফুফাতো বোনকে ধর্ষণের পর হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৩, ১৭:০১

আপন ফুফাতো বোন আঁখি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় করা মামলায় আসামি তরিকুল ইসলাম রায়হানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক শামসুন নাহার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া আলামত গোপন করার দায়ে আসামিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মৃত আখির মূল্যবান জিনিসপত্র আত্নসাৎ করার দায়ে আরও একবছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রায়হানের স্ত্রী, সন্তান,মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যরা বাসার বাইরে ছিলেন। রায়হান বাসার ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছিল। আঁখি ছিল নিজ রুমে। একপর্যায়ে আঁখির রুমে গিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় রায়হান। এতে আঁখি চরমভাবে ক্ষিপ্ত হলে জোরপূর্বক আঁখিকে ধর্ষণ করে। আঁখি তখন ধর্ষণের কথা পরিবারের সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে গলাটিপে হত্যা করে তাকে। গলা থেকে সোনার চেইন ও কানের দুল খুলে নেন। আঁখির ফোনও বন্ধ করে পকেটে রাখে। এরপর লাশ গুম করার চেষ্টায় পাতলা কাঁথা দিয়ে লাশ মুড়িয়ে ফেলেন।

এরপর মিরপুর ১১ নম্বর সোসাইটি মার্কেটে গিয়ে একটি কালো ব্যাগ ও তালা কেনেন। আঁখিকে কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে ব্যাগে ভরেন। সেটা একটি সিএনজিতে করে নিয়ে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে চলে যান। কিন্তু নামার সময় দেখা যায়, ব্যাগের চেইন ছিঁড়ে গেছে। ধরা পড়ার ভয়ে ফুটপাতের এক ফলের দোকানিকে ব্যাগটা দেখে রাখার কথা বলে সটকে পড়েন। আখিঁর মোবাইল ফোনটা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর পকেটে রাখেন। কিন্তু বন্ধ ফোনটা চালু করতেই ফোন আসতে শুরু করে। এরপর ফোনটা বন্ধ করে বিক্রি করে দেন। তারপর আসামি তরিকুল তার বাবার সঙ্গে মিলে নিজেই আখিঁর দাফন–কাফন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এত কিছুর মধ্যেও পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পাঁচ দিন স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে  খুনি তরিকুল ইসলাম রায়হান। লাশ উদ্ধারের পর খুনিও সবার সঙ্গে কান্নাকাটি করেছে। কারোরই সন্দেহ হয়নি খুনি রায়হানকে। মেয়ে হত্যার খবর পেয়ে বিদেশ (মরিশাস) থেকে আঁখির বাবা বেলায়েত হোসেন আরিফ দেশে ফিরে আসেন। তারও সন্দেহ হয়নি রায়হানকে। আঁখির বাবার সঙ্গে কবর জিয়ারত করতে মাদারীপুরের কালকিনির গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছিলো খুনি তরিকুল ইসলাম রায়হান।

লাশভর্তি ব্যাগ ফেলে যাওয়ার পরদিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এলাকা থেকে কালো ব্যাগ থেকে আঁখির লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। 

তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তরিকুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ।আখির কবরের সামনে থেকে পুলিশ খুনি রায়হানকে গ্রেফতার করে। পরে খুনি তরিকুল নিজেই অপরাধের দায় স্বীকার করে আদালতে দেওয়া তরিকুলের স্বীকারোক্তি  জবানবন্দিতেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তরিকুল। মামলার ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে আসামির পিতা নুরুল ইসলাম একটি বানোয়াট ও মিথ্যা ঘটনায় নিজেই তার পুত্রকে বাচানোর জন্য একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। রেলওয়ে থানার এসআই মো. আনিছুর রহমান ও রকিবুল হক মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে নজরুল ইসলামের এজাহারকে ভুয়া উল্লেখ করে তারপুত্র খুনি তরিকুল ইসলাম রায়হানকে আসামি করে ৩৪ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটার আলী আসগর স্বপন ২৪জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্হাপন করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন।

ইত্তেফাক/এএএম