শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শান্ত-সাকিবে ইংলিশ পরীক্ষা পাশ টাইগারদের

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ১৫:২৬

গত নভেম্বরে পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড দল। এরপর আর কুড়ি ওভারের এ ফরম্যাটে নামেনি জস বাটলাররা। এরপর কেটে গেছে ৩ মাসেরও বেশি সময়। তবে এতদিন পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলতে নেমে মোটেও সুখকর স্মৃতি রাখলো না বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শান্ত-সাকিবের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সে তাদের নিতে হয় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের পর গতকাল  টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। কাগজেকলমের হিসাব অনুযায়ী টাইগারদের তুলনায় জস বাটলারবাহিনী কয়েকগুণ শক্তিশালী। তবে তাদের যে এত সহজেই মাটিতে নামিয়ে ফেলবে টাইগাররা তা কেউ অনুমানও করতে পারেনি। হাতে দুই ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় সাকিববাহিনী। এর আগে চট্টগ্রামের শেষ ওয়ানডেতে এক সাকিব অলরাউন্ডারে ভর করে জয় পেলেও গতকালকের জয়ে সাকিবের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছে তরুণ টাইগাররা। তাদের মধ্যেও সব থেকে বেশি অবদান রাখে দলের তরুণ বা-হাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত।

নাজমুল হাসান শান্ত

বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এদিন বাংলাদেশ নতুন এক দল নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করতে নেমেছিল। ধরতে গেলে এক প্রকার পরীক্ষাই। এদিন জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম খেলতে নামে বিপিএলে ব্যাট হাতে ফরমে থাকা তৌহিদ হৃদয় এবং ৮ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামে তালুকদার। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনাপে এমন পরিবর্তন কিছুটা আগে থেকেই অনেকে ধারণা করে রেখেছিল তাদের সম্প্রতি ফরমে।

তবে টাইগারদের জয়ের আশা শুরুতেই যেন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সাকিবের সিদ্ধান্তে আগে ব্যাট করতে নেমে যা শুরু করেছিল ইংলিশ দুই ওপেনার তা দেখে তাত্ক্ষণিক মনেই হয়েছিল সাকিব হয়তো এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ভুলই করে ফেলেছে। কেননা ইংলিশদের দুই ওপেনার ফিল সল্ট এবং জস বাটলার রীতিমতো টাইগার বোলিং আক্রমণের ওপর দাপটই দেখাচ্ছিল। বাংলাদেশের বোলাররা কোনোভাবেই তাদের উইকেট তুলে নিতে পারছিল না। তবে নবম ওভারের শেষ বলে সল্টকে ফেরায় নাসুম। তখন স্কোর বোর্ডে ইংল্যান্ডের রান ৮০। এই উইকেট পাওয়ার পরই যেন প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। বাকি ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ইংলিশরা তুলতে সক্ষম হয় মাত্র ৭৬ রান। এতে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৬। এর মধ্যে বল হাতে সাকিব তুলে নেন এক উইকেট।

অধিনায়ক তুলে নেন ইনিংসের দ্বিতীয় উইকেট ডেভিড মালানকে। এছাড়া ইংলিশদের যাওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে ৩টিতেই রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর সহায়তা। শান্ত ধরেছে বাটলার, মালান এবং স্যাম কারানের ক্যাচ।

এদিকে শান্ত তিনটি ক্যাচ ধরার পর ব্যাট হাতেও চড়াও হয় ইংলিশ বোলারদের ওপর, চালান তাণ্ডব। তুলে নেন জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। তবে এরপর অবশ্য বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি। ৩০ বলে ৮ বাউন্ডারির সাহায্যে ৫১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেন শান্ত। শান্ত থামার পরই শুরু করে সাকিব। ১১ ওভার ২ বলের সময় যখন স্যাম কারান ফেরান তৌহিদ হৃদয়কে তার পরই উইকেটে আসেন সাকিব এবং শেষ অবদি আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন টাইগার এ অধিনায়ক। এ সময় ২৪ বল খেলে ৬ চারের মারে ১৪১.৬৬ স্ট্রাইক রেটে সাকিব করেন ৩৪ রান।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ