জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। পেশাজীবীদের মধ্যে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সংগঠনের নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থিত দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা আইনজীবীদের কাছে যাচ্ছেন, ভোট চাচ্ছেন। নিজেদের পক্ষের প্যানেলকে বিজয়ী করার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থিত দুই প্যানেলের মধ্যে। এই দুই প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে যারা জয়লাভ করেন তাই সমিতির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। আর যারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নেতৃত্ব দেন তারাই দলমত নির্বিশেষে সমিতির সদস্যদের উন্নয়নে কাজ করে থাকেন।
এদিকে আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিজ নিজ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন তারা দিন-রাত ভোটারদের মন জয়ে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভাগীয় ও অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনও তাদের নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে চলেছেন। যাতে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচনে বিজয়ী করে আনা যায়।
ইতিমধ্যে আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতারা তাদের নিজ নিজ প্যানেল ঘোষণা করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। ষোষণা অনুযায়ী আওয়ামী সমর্থিত প্যানেল থেকে এবারের কার্যকরী কমিটির (২০২৩-২০২৪) নির্বাচনে সভাপতি পদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভেকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক আবদুন নূর দুলালকে ফের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওই প্যানেল থেকে দুই সহ-সভাপতি পদে জেসমিন সুলতানা ও মোহাম্মদ আলী আজম, কোষাধ্যক্ষ পদে এম. মাসুদ আলম চৌধুরী এবং দুই সহ সম্পাদক পদে এবিএম নূরে আলম (উজ্জ্বল) ও মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ মনোনয়ন পেয়েছেন। সাত সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান রানা, মো. সাফায়েত হোসেন সজীব, মো. নাজমুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ রুদ্র, শফিক রায়হান শাওন ও সুভাষ চন্দ্র দাস।
এদিকে গত ৪ মার্চ বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এবার ওই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দুই সহ-সভাপতি পদে মো. হুমায়ুন কবির মঞ্জু ও সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা এবং কোষাধ্যক্ষ পদে রেজাউল করিম মনোনয়ন পেয়েছেন। দুই সহ-সম্পাদক পদে মো. মাহফুজুর রহমান মিলন ও মোহাম্মদ আব্দুল করিম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাতটি সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন ফাতিমা আক্তার, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আশিকুজ্জামান নজরুল, মোহাম্মদ ফয়সাল দস্তগীর, রাসেল আহমেদ ও সৈয়দ ফজলে এলাহি অভি।
আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট। দুদিনব্যাপী এই নির্বাচনে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ভোট চলবে। এর আগে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত উপ-কমিটি নিয়ে সমিতির বর্তমান কার্যকরী কমিটি বিভক্ত হয়ে পড়েন। তারা পৃথক পৃথকভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করে দেন। পাল্টাপাল্টি এই কমিটি গঠনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবীরা বৈঠকে বসেন। গত ২ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ.এম আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ঐক্যমতের ভিত্তিতে উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পান সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
উপ-কমিটির সদস্যরা হলেন-মো. মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ ইলিয়াস ভূঁইয়া (কচি), এ এস এম মোক্তার কবির খান, মোহাম্মদ আশরাফ-উজ-জামান খান, মো. আসাদুজ্জামান মনির ও এস এম গোলাম মোস্তফা তারা।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২২-২০২৩ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ সাতটি পদে বিজয়ী হয়েছিলো আওয়ামী সমর্থিত প্যানেল। বাকী সাতটি পদে জিতেছিল বিএনপি সমর্থিত প্যানেল।
