কালো টাকা সাদা করার পক্ষে প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের সমর্থন অযৌক্তিক :টিআইবি

আপডেট : ২০ জুন ২০১৯, ০০:৩০

 ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই’ প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে পর্যবেক্ষণে বহুজাতিক পরামর্শক সেবা প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স বাংলাদেশের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, দৃশ্যত অকার্যকর এই পদক্ষেপ। ‘ভারতেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল’ এমন যুক্তি দেওয়াটা রীতিমতো অনৈতিক। টিআইবি আশা করে, কালো টাকার মালিকদের সুরক্ষা বা নতুন সুযোগ না দিয়ে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং এর মাধ্যমে দুর্নীতির বিকাশের ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, কালো টাকাকে প্রায় অবাধে, নামমাত্র কর প্রদান সাপেক্ষে বৈধতা প্রদান ও ২০১৯-২০২০ বাজেটে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতি সহায়ক।

সরকার প্রধান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পেছনে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, সে বিষয়ে ড. জামান বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে ১৯৭২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আঠারো হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ করের আওতায় এসেছে। যেখানে বাংলাদেশ ইকোনোমিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল নাগাদ ৫ থেকে ৭ লাখ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ক্রিয়াশীল ছিল। আমরা আশা করি, সরকার এই বাস্তবতা বিবেচনায় নেবে এবং দুষ্টের পালন না করে বরং কঠোর আইন করে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। তা না হলে দেশের ভালো করদাতারা নিশ্চিতভাবেই নিরুত্সাহিত হবেন। আমরা তাই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’র নীতিতেই আস্থা রাখতে চাই।