মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩, ৭ চৈত্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে নারাজ বিজেপির সরকার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩, ২০:০০

সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনের কঠোর বিরোধিতা করেছে ভারত সরকার। এরই মধ্যে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন পেশ করেছে। আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, সমলিঙ্গের বিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই বিয়ে স্বীকৃত হলে সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভারতীয় সমাজে বিয়েকে একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। সমলিঙ্গের বিয়ে স্বীকৃতি পেলে সেই পবিত্রতা নষ্ট হবে।

সমলিঙ্গের বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে করা বেশ কয়েকটি আবেদনের বিরোধিতা করে রোববার (১২ মার্চ) দেশটির শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আইনগত ধারণার সঙ্গে জড়িত এবং বিচারবিভাগীয় ব্যাখ্যা দ্বারা এটি বিঘ্নিত বা দুর্বল করা উচিত নয়।

ভারতে দীর্ঘদিন ধরে এলজিবিটিকিউ আন্দোলন চলছে। কয়েকবছর আগে সমলিঙ্গের যৌনতার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত। সমলিঙ্গের বিয়ের অধিকার নিয়ে লড়াই করছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই লড়াই আরো কঠিন করল বলেই মনে করছেন তারা।

এবিষয়ে এলজিবিটিকিকিইউ আন্দোলনের শরিক সুজি ভৌমিক ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘লড়াই কোনোদিনই কঠিন ছিল না। কেন্দ্রের বক্তব্যে এতটুকু অবাক হইনি। তবে বিচার বিভাগের উপর আমাদের আস্থা আছে।’

সমলিঙ্গের বিয়ে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন দেবলীনা। সম্প্রতি ওড়িশায় তার সিনেমাটি দেখানোর কথা ছিল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দেন কর্তৃপক্ষ। 

তিনি বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী সরকারের কাছ থেকে এর থেকে বেশি আর কী-ই বা প্রত্যাশিত? আমি এতটুকু অবাক নই।’ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গোটা বিশ্ব যখন সমলিঙ্গের বিয়েকে স্বাগত জানাচ্ছে, তখন ভারত সরকারের এই বক্তব্য সভ্যতার উল্টো দিকে হাঁটার সামিল।

এর আগে ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সমকামী সম্পর্ক নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দেন ভারতের শীর্ষ আদালত। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার আওতায় ২ জনের পূর্ণ সম্মতিতে সমকাম সম্পর্ক অপরাধ নয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি