বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন

বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় দশমিনার ছয় গ্রাম

আপডেট : ২০ জুন ২০১৯, ২১:৪১

পটুয়াখালীর দশমিনার রনগোপালদি ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের ওপরে নির্মিত বিটুমিন কার্পেটিংয়ের উপজেলা সংযোগ সড়কের অনেকটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে রনগোপালদি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রনগোপালদি ও আলীপুরা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া শাখা নদী পাড়ের কৃষকের ফসল রক্ষাসহ দুর্যোগ ও প্লাবন থেকে জানমাল রক্ষায় নব্বইয়ের দশকে পাউবো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করে। পরবর্তীতে এলজিইডি বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।

এলজিইডি দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে এলজিইডি ‘দক্ষিণ-পশ্চিম প্রকল্প’ এর আওতায় দশমিনা উপজেলা সদর থেকে আলীপুরা ইউনিয়ন হয়ে রনগোপালদি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার বাঁধের উপর বিটুমিন কার্পেটিং করে উপজেলা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। সে সময়ে এতে ব্যয় হয় ৮ কোটি টাকা। গত বছর থেকে মধ্য রনগোপালদির বুড়িরকান্দা এলাকায় এই বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে নদীর পানির চাপে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। ভাঙনে বাঁধের ৭০ মিটারেরও বেশি ইতোমধ্যে ধসে গেছে।

তিনি আরো জানান, এলজিইডি থেকে সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কের বুড়িরকান্দা পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মেরামত করা হবে। বাঁধ ধসে পড়ায় পরের অংশ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পাউবো বাঁধ মেরামত কিংবা নতুন করে নির্মাণ করার পর সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের উত্তর দিকে ইউনিয়নের রনগোপালদি, উত্তর-রনগোপালদি, খলিশাখালী, গোলবুনিয়া, গুলি ও যৌতা এ ছয়টি গ্রাম এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে রনগোপালদি বাজার, আউলিয়াপুর, পাতারচর ও চরঘূনি গ্রাম এবং রনগোপালদি ইউপি কার্যালয়। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রনগোপালদি ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম আসাদুল হক বলেন, বাঁধটি আগে থেকে ভাঙনের আশঙ্কায় ছিল। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বেড়িবাঁধে ভাঙন আরো বাড়ে। এতে করে বাঁধের উপরের বিটুমিন কার্পেটিং সড়কও ভেঙে বিলীন হচ্ছে। এই সড়কই উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়ন হয়ে দশমিনা উপজেলা সদরে যাতায়াতের সহজ পথ। বাঁধ ভেঙে গেলে ছয়টি গ্রামের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এছাড়াও দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যেতে অন্তত তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হবে। এতে ভোগান্তিতে পড়বে ইউনিয়নবাসী। নদী পাড়ের গ্রামগুলোতে ফসল আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, বেড়িবাঁধটি এলজিইডি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তারপরও যেহেতু বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, এ কারণে নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। অনুমোদন পেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।