দ্রুত ফেরাতে না পারলে অস্ট্রেলিয়ান টপ অর্ডার যে ঝড় তুলবে, এটা জানা কথা ছিল। ১০ রানে থাকতে ডেভিড ওয়ার্নার একটা ক্যাচও দিয়েছিলেন। পয়েন্টে সেটা হাতে নিতে পারেননি সাব্বির রহমান। আর ইনিংসের শুরুর দিকের এই ভুলের ভয়ানক মাসুল দিতে হলো বাংলাদেশের বোলারদের। রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে সব বোলারের ওপর দিয়ে তাণ্ডব চালালেন ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, খাজা, ম্যাক্সওয়েলরা।
রুবেল হোসেনকে একাদশে আনাটা গনদাবিতে পরিণত হয়েছিল। সাইফউদ্দিনের চোট তাকে সে সুযোগ করে দিল। গতকাল বাংলাদেশের একাদশে আরো একটা পরিবর্তন ছিল। একটু চোটে ভুগতে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বদলে খেলছিলেন সাব্বির। তবে রুবেলের ফেরাটা ভয়ানক বাজে অভিজ্ঞতার হলো।
রুবেল তার ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ৭৬ রানের বেশি ওয়ানডে ম্যাচে ব্যয় করেননি। সেখানে গতকাল ৯ ওভার বল করে ৮৩ রান ব্যয় করে ফেললেন। যদিও এটা তার সবচেয়ে খারাপ ইকোনমি নয়। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপকে। ১ ওভারে ১২ রান খরচ করেছিলেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ ওভারে ৬২ রান দিয়েছিলেন; সেদিন ইকোনমি ছিল ১০.৩৩। গতকাল ইকোনমি ছিল ৯.৫০; রুবেলের ক্যারিয়ারের তৃতীয় জঘন্য।
আর এর সবকিছুই হয়েছে মূলত ডেভিড ওয়ার্নারের ভয়ানক ব্যাটিংয়ের কারণে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভয়াবহ ফর্মে আছেন। বিশ্বকাপে এসেও সেই ফর্মটা ধরে রেখেছেন। গতকাল অধিনায়ক ফিঞ্চের সাথে ১২১ রানের জুটি করেছেন ২০.৫ ওভারে। ফিঞ্চ ৫১ বলে ৫৩ রান করে আউট হয়ে গেছেন। এরপর উসমান খাজাকে নিয়ে রানের গতিটা আজও বাড়িয়েছেন। ওয়ার্নার ৪৫তম ওভারে যখন আউট হন, তখনই অস্ট্রেলিয়ার রান ৩১৩ হয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার রানটা আসলে পাহাড়ে চড়েছে ৩৮ থেকে ৪৬তম ওভারের মধ্যে। এই সময়ে ৯ ওভারে ১২৮ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। মানে, ওভারপ্রতি ১৪.২ করে রান উঠেছে। এর আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া মোটামুটি বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু এই সময় তারা পার হয়ে যায় সীমানাটা।
ওয়ার্নার ১০ রানে জীবন পাওয়ার পর সেঞ্চুরি তো করেছেনই; ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বারের মতো ১৫০ রান পার করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ বলে ১৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১৬৬ রান করে আউট হয়েছেন। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এসে আরো ঝড়ো ব্যাটিং করেন। তিনি ১০ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩২ রান করে ফেরেন। আর খাজা মাঝের দিকটায় ইনিংস ধরে রাখার পাশাপাশি ঝড়ে অংশ নেন। তিনি শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে ১০টি চারে সাজানো ৮৯ রান করে আউট হন।
এই প্রবল ঝড়ের মধ্যে সাফল্য ছিল কেবল সৌম্য সরকারের। এর আগে ক্যারিয়ারে কখনোই বোলার হিসেবে খুব সাফল্য না পাওয়া সৌম্য গতকাল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিন উইকেটই তুলে নেন। পেয়েছেন ওয়ার্নার, ফিঞ্চ ও খাজার মহামূল্যবান তিন উইকেট। এ ছাড়া মুস্তাফিজ একটি উইকেট পেয়েছেন। আর ম্যাক্সওয়েল রানআউট হয়েছেন।
