অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল আফগানিস্তান। এশিয়ার উদীয়মান দলটার দিকে নজর ছিল সবার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সবকিছুই যেন উল্টো রথে ছুটছে। এখন পর্যন্ত বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ কাটছে আফগানদের। পাঁচ ম্যাচের সবকটি হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে আছে তারা।
গত মঙ্গলবার খবর বের হয়, ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে এক রেস্টুরেন্টে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা। এবার কোচ ফিল সিমন্সের মাধ্যমে উন্মোচন হলো আফগান শিবিরের গৃহবিবাদের আদ্যোপান্ত। রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন এই ক্যারিবিয়ান। বিশ্বকাপের মাঝপথে টুইট করে সিমন্স বলেছেন, দলে ফাটলের জন্য দায়ী প্রধান নির্বাচক দৌলত আহমেদজাই। যা দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপে দলটির অভ্যন্তরের ভঙ্গুর, বিধ্বস্ত, গ্রুপিংয়ের চূড়ান্ত রূপটা তুলে ধরেছে।
বিশ্বকাপে আসার আগে থেকেই অবশ্য দ্বন্দ্বের সূত্রপাত আফগান দলে। হুট করেই নিয়মিত অধিনায়ক আজগর আফগানকে সরিয়ে বিশ্বকাপে দলটির নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয় গুলবাদিন নাইবের হাতে। যে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত সমালোচনা করেছেন দলের সিনিয়র ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে দলের ভেতরে চলমান অন্তঃকলহ, সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন অধিনায়ক গুলবাদিন। এসব গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।
অধিনায়ক পরিবর্তনে বিরক্ত সিমন্স তখনই বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নির্বাচকরা তার সঙ্গে আলোচনা করেননি। তখন ঘোষণাও দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের পর বিদায় নিবেন তিনি। গত বুধবার আবারও চটেছেন সিমন্স। কারণ বিশ্বকাপে এই ভরাডুবির জন্য কোচিং স্টাফদের দায়ী করেছেন আফগান প্রধান নির্বাচক।
গতকাল সিমন্স টুইট করেছেন, ‘আমি এখন বিশ্বকাপের মাঝপথে আছি এবং চেষ্টা করছি এই পর্যায়ে দল যেন প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করে। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে আফগানিস্তানের মানুষদের আমি বলব, আমাদের প্রস্তুতি এবং আজগর আফগানকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে দৌলত আহমেদজাইয়ের কি ভূমিকা ছিল।’
এক সপ্তাহ আগেও সিমন্স টুইট করে জানিয়েছিলেন, আফগান বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের খবরটি ভুয়া।
এদিকে, গত সপ্তাহে হাঁটুর ইনজুরিতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন আফগান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। যদিও বাদ পড়ার পর তিনি দাবি করেছেন, তাকে জোর করে বাদ দেয়া হয়েছে। তাই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আফগানিস্তানের।
এত সব নাটক, বিতর্কে টালমাটাল আফগান দলটি।
