২০২১ সালে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থ হয়ে ফেরে বাংলাদেশ দল। সে সময় ব্যাট হাতে ব্যর্থতার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল সেই টুর্নামেন্টে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করা সৌম্য সরকার ও লিটন কুমার দাসকে। তখন গুঞ্জন উঠেছিল, কুড়ি ওভারের এই ফরম্যাটেই হয়তো রাখা হবে না এ দুই ব্যাটারকে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলে সৌম্য টিকে থাকতে না পারলেও ঠিকই সব ফরম্যাটে টাইগারদের ওপেনিংয়ে ভরসার নাম হয়ে টিকে রয়েছেন লিটন দাস।
লিটন সে সময় ব্যাট হাতে ফর্মে না থাকলেও সবারই জানা ছিল তার সক্ষমতা সম্পর্কে। তার ব্যাটিং করার ধরন কিংবা বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার সক্ষমতা জানত নির্বাচক কমিটি। তাই তাকে বারবার দলে সুযোগ দিয়েছে। আর ডান-হাতি এই ওপেনারও দিয়েছেন তার ওপর ভরসা রাখার প্রতিদান। বর্তমানে তার ব্যাটিং দেখে যে দেশের মানুষ চোখের শান্তি অনুভব করছে তা নয়, স্বয়ং প্রতিপক্ষও তার প্রশংসা করতে বাধ্য হচ্ছে।
চলমান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে উইকেটে দাঁড়িয়ে আইরিশ বোলারদের কচুকাটা করছেন ২৮ বছর বয়সি ওপেনার। প্রথম ম্যাচে ২৩ বলে ৪৭ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফিফটি তুলতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে আরো বিধ্বংসী রূপে অবতীর্ণ হন লিটন। গত পরশু অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচে ৪১ বলে ২০২.৪৪ স্ট্রাইক রেটে খেলেন ৮৩ রানের দানবীয় এক ইনিংস। এ সময় করেন এক রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এদিন করে নেন নিজের নামে।
তাই ম্যাচ শেষে লিটনকে তার ব্যাটিংয়ের জন্য প্রশংসায় ভাসান প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক। গত বুধবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং বলেন, ‘সে (লিটন) দারুণ একজন ক্রিকেটার। কোনো সন্দেহ নেই যে সে আসলে খুবই ভালো একজন ক্রিকেটার। সম্প্রতি বিশ্বকাপে (২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) তার দারুণ কিছু ইনিংস আমরা সবাই দেখেছি। মাঝে মাঝে তার ব্যাটিং দেখলে ব্যাটিং করাটাকে খুবই সহজ মনে হয়। এ বিষয়টা সব সময়ই বেশ ভালো। নিঃসন্দেহে সে দারুণ একজন ব্যাটার।’ তবে লিটন যে শুধু টি-টোয়েন্টিতেই ভালো খেলছে, ব্যাপারটা এমন নয়। আইরিশদের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে তিনি ব্যাক টু ব্যাক তুলে নিয়েছেন ফিফটি। এছাড়া শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ১০ উইকেটে জয় পাওয়ার দিনও অধিনায়ক তামিমের সঙ্গে থিতু হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন উইকেটে। সেই ম্যাচে ১৩১ স্ট্রাইক রেটে ১০ চারের মারে ৩৮ বলে হাঁকান ফিফটি।
