উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এ পাশে দাঁড়ানো কোনো সামরিক সহযোগিতা হিসাবে নয়। অত্যন্ত মানবিক কারণে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়া দেশটির জন্য ৫০ হাজার টন চাল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিগত প্রায় এক দশকে এই প্রথম বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা দেশটিকে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সামরিক শক্তিতে উত্তর কোরিয়া যতই তাদের নিজেদের শক্তি অর্জন করুক না কেন অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশটি একেবারে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। ক্রমাগত খরায় সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আর এই বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রবল বৈরী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। খাদ্য সাহায্যের পুরোটাই দেওয়া হচ্ছে অনুদান হিসাবে। তবে উত্তর কোরিয়ার এই দুর্বল অর্থনীতির জন্য তারা যেমন নিজেরা দায়ী তেমনি দায়ী তাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা অর্থনৈতিক অবরোধ। বিষয়টি একেবারে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ত্রাণ সরবরাহ করা হবে। এর তত্ত্বাবধানে থাকবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প। দেশটির একত্রীকরণ মন্ত্রী কিম ইয়ুন চুল বলেন, সরকার উত্তর কোরিয়ার এই দুর্দিনে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। আর এ কারণেই তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এর আগে ২০১০ সালেও ৫ হাজার টন চাল সহায়তা দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির এই মারাত্মক অর্থনৈতিক দুর্বলতার চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে। সেসময়ে ভয়ানক দুর্ভিক্ষে মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেয়নি উত্তর কোরিয়া।
বিগত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র খরার কবলে পড়ার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটিতে মাত্র ৫৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯৮২ সালের পর এটাই সেখানে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
