উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মানব পাচার নির্মূলে বাংলাদেশ সরকার ন্যূনতম মান অর্জনে সমর্থ হয়নি। তাই টানা তৃতীয়বারের মতো মার্কিন মানব পাচার বিষয়ক প্রতিবেদনে টায়ার-২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ (টিআইপি)-২০১৯ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের র্যাংকিংয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, যারা পাচারের শিকার হন, তাদের প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণকারী দেশগুলো স্থান পায় প্রথম ধাপে (টায়ার ওয়ান)। পাচার রোধে সব উদ্যোগ না নিতে পারলেও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণকারীদের স্থান হয় দ্বিতীয় ধাপে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয় ধাপে। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে যায়। টায়ার-২ থেকে বাংলাদেশ টায়ার-২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় স্থান পায়। যেসব দেশ মানদণ্ড অর্জনের চেষ্টা করছে; কিন্তু কার্যকর ক্ষেত্রে তার পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তারা এই তালিকায় স্থান পায়। এবারো বাংলাদেশ একই অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচার নির্মূলে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। যদিও গত বছরের প্রতিবেদনের তুলনায় সার্বিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি দেখা যায়নি। বাংলাদেশ গেল বছরে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের কম সংখ্যায় শনাক্ত করেছে এবং তাদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মানব পাচারের শিকার রোহিঙ্গা ও বিদেশি ভিকটিমরা নিরাপত্তামূলক সেবায় প্রবেশাধিকার পায়নি। সমস্যার তীব্রতার তুলনায় মানব পাচারের ঘটনা তদন্ত, বিচার ও দোষীদের সাজা প্রদানের হার অপর্যাপ্ত বলে সরকারই স্বীকার করেছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানবিক সহায়তা দিয়েছে এবং মানব পাচার রোধে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন এনজির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচার অপরাধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা এখনো একটি বড় সমস্যা। এখনো অভিবাসী-কর্মীদের অনেক বেশি অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে এবং অবৈধ সাব-এজেন্টের সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ আসেনি। সরকারের লিখিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানব পাচার সমস্যা মোকাবেলায় ন্যূনতম মান অর্জন সম্ভব হতে পারে।
