একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন গতকাল গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। নজরদারির জন্য পাঠানো এই ড্রোনটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়। ইরানের সবচেয়ে সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনী রেভ্যুলিশনারী গার্ডস দাবি করেছে, মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এর মাধ্যমে ইরান বড় ধরনের ভুল করলো। এদিকে সৌদি আরব বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনটি আকাশের অনেক ওপর থেকে গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে ড্রোনটি কোথায় ছিল তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা শোনা গেছে। ইরানের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এটিকে যখন হরমুজ প্রণালীর ওপর একটি ভূমি থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন এটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল। ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ডসের প্রধান বলেছেন, মার্কিন ড্রোন ফেলে দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে খুব স্পষ্ট একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। সেটি হলো- ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু দরকার হলে যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ভূপাতিত ড্রোনটির নাম আরকিউ ৪এ গ্লোবাল হাওয়াক। এই ড্রোনটি ইরাক, আফগানিস্তান, উত্তর আফ্রিকা এবং এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ইউএস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কন্ট্রাক্টর নথ্রোপ গ্রুম্যান জানিয়েছেন, দিনে-রাতে যে কোনো আবহাওয়ায় সুক্ষ্মভাবে উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি তুলতে সক্ষম ছিল। এর আধুনিকীকরণ করে আরকিউ ৪বি নামের ড্রোন তৈরি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দেল আল জুবায়ের বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, এই হরমুজ প্রণালীতেই গত সপ্তাহে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলা হয়েছিল। সেই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই দায়ী করে। তবে তেহরান কর্তৃপক্ষ এর দায়িত্ব অস্বীকার করেছিল। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। কিন্তু সেখানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
