আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা। যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় তাকে হাইকোর্টের দেওয়া স্থায়ী জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান গতকাল এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে স্থগিত আবেদনটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই ওই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
বুধবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই হত্যা মামলায় রানাকে স্থায়ী জামিন দেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ শুনানি করেন। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই মামুনের বাবা আদালতে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেফতার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরন মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রানার সম্পৃক্ততা উঠে আসে।
ফারুক হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গতকাল দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদ কবিরের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। টাঙ্গাইল আদালতের পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহাম্মেদ জানান, সাক্ষী ডা. আশরাফ আলী ও আব্দুল আরা সাক্ষ্যপ্রদান করেছেন। এ নিয়ে মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে রানা ও তার তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। ফারুক হত্যা মামলায় রানা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
