চীন অনেকদিন ধরেই ভারতের অরুণাচলকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি চীন প্রদেশটির ১১টি জায়গার নতুন নামকরণের চেষ্টা করছে। ভারত চীনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি মঙ্গলবার বলেছেন, “চীন প্রথমবার এমন চেষ্টা করছে না। আমরা এ নামকরণ মানতে রাজি নই। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করে বাস্তব বদলানো যাবে না।”
তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “চীন পুরোপুরি তার সার্বভৌমত্বের আওতায়ই জায়গার নাম বদলেছে। দক্ষিণ তিব্বত অঞ্চল চীনা ভূখন্ড।”
নাম বদলের তালিকায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে আছে দু’টি বিস্তীর্ণ ভূমি এলাকা, দু’টি আবাসিক এলাকা, দু’টি নদী এবং পাঁচটি পর্বতশৃঙ্গ। এমনকী অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরের কাছাকাছি একটি শহরও।
চীন একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছে যেখানে অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশকে চীনের বলে দাবি করা হয়েছে এবং এ এলাকাকে ‘জাংনান’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চীনের নগর বিষয়ক দপ্তর গত ১ এপ্রিল দক্ষিণ তিব্বতের কয়েকটি ভৌগলিক জায়গার নাম বদলে মানোপযোগী করার ঘোষণা দেওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে নতুন এই শুরু হল।
চীনা এবং তিব্বতিসহ মোট তিনটি ভাষায় সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নামবদলের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মানুষ যাতে আরও সহজে এলাকাগুলোর নাম সঠিকভাবে মনে রাখতে পারে, সেজন্যই এ পদক্ষেপ।
এ নিয়ে তৃতীয়বার অরুণাচল প্রদেশের অনেকগুলো এলাকার নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করলো চীন। এর আগে ২০১৭ এবং ২০২১ সালেও ‘জাংনান’ চীনের বলে দাবি করেছিল দেশটির সরকার। আরও দাবি করা হয়েছিল যে, ওই এলাকা চীনের বলে দাবি করার যথেষ্ট ‘ঐতিহাসিক এবং প্রশাসনিক ভিত্তি’ রয়েছে।
প্রথমবার ২০১৭ সালে দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশ সফরের পর চীন এর জবাবে প্রদেশটির ছয়টি স্থানের নামের প্রথম একটি তালিকা প্রকাশ করে। এরপর চীন ২০২১ সালে ১৫টি স্থানের দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক জায়গার নাম বদল করা হয়।
লাদাখে এরই মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছে ভারত এবং চীন। দু’দেশ বার আলাপ-আলোচনায় বসেও বিশেষ লাভ হয়নি। এমন অবস্থায় নতুন করে চীনের অরুণাচল প্রদেশের জায়গার নাম বদলানোর চেষ্টা দুই দেশের মধ্যে ফের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

