মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন কেজরিওয়াল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৬

ইথানল মেশানো জ্বালানির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করতে চলেছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ উপলক্ষে দিল্লিতে মিছিলও হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মেশানো জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, ৪ আগস্ট দুপুরে নিজেই মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। সঙ্গে থাকবেন এমন একশ জন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে প্রস্তুত।

কেজরিওয়ালের অভিযোগ, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে এই জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে জনসম্মুখে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুক। সেখানে সরকার ও বিরোধীরা নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেছেন, ইথানল মেশানো জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ক্ষতি হয়েছে, এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না।

ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, এই নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, শুধু পরিবেশের যুক্তিই নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে এই নীতির পেছনে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার দ্রুত এই নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মেশানো জ্বালানি দুটোই রাখতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের দামও কমাতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন আর শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচি নিয়ে একাধিকবার পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 ইতোমধ্যে ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায়, সেদিকেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের এখন নজর।

ইত্তেফাক/এবিএস