কঁচা নদীর খনন কাজ শেষ পর্যায়ে

নৌ চলাচলে ফিরেছে গতি স্বস্তিতে যাত্রীরা

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০০:০৭

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ও ভান্ডারিয়ার মধ্যবর্তী কঁচা নদীতে দীর্ঘ দিন ধরে ডুবোচরে আটকে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। চরখালী-টগড়া ফেরি চলাচলে ভোগান্তির কোন শেষ ছিল না। নাব্য সংকটের কারণে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা পড়ে হুমকির মুখে। এই রুটে  বাংলাদেশ-ভারত (আন্তর্জাতিক) এবং খুলনা ও মংলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ রয়েছে। ডুবোচরের কারনে এ পথে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসির রকেট-স্টিমার, সরকারি ও বেসরকারি অয়েল ট্যাংকার, কোস্টার, কার্গো, নৌবাহিনীর জাহাজ ইত্যাদি চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।  এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডাারিয়া-ইন্দুরকানী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি নিজস্ব চেষ্টায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে কঁচা নদীর ডুবোচর খননের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে বরিশাল-ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৩ কিলোমিটারে কঁচা নদীর চরখালী-টগড়া পয়েন্টের উভয় পাশে অবস্থিত ডুবোচর খননের (ড্রেজিং) কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিভিল) মিজানুর রহমান সোহেল জানান, কঁচা নদীর ৫০০ মিটার দীর্ঘ ও ২৩ মিটার চওড়া এলাকায় এই খনন কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখানে ৬৫ হাজার ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। প্রায় এক মাস ধরে খনন কাজ চলছে চরখালী-টগড়া ফেরি ঘাট সংলগ্ন এলাকায়।

চরখালী-টগড়া ফেরির ইজারা আদায় কর্মী হায়দার আলী জানান, ডুবোচরের কারণে এখানে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। পন্য পরিবহনেও সমস্যার শেষ ছিল না। অনেক সময় গাড়িসহ ফেরিগুলো ডুবোচরে দীর্ঘসময় ধরে আটকে থাকত। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে রোগিসহ ডুবোচরে ফেরি ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকায় রোগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।  নদীর উভয় প্রান্তে যানবাহনের লম্বা লাইন ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

বর্তমানে সে চিত্র আর নেই। দূরন্ত গতিতে নিয়মিতভাবে এখন ফেরি চলাচল করছে । নির্বিঘ্নে যাত্রী সাধারণ পৌঁছে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যে। সবার মাঝে এখন স্বস্তির নি:শ্বাস।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক খোকন জানান, চরখালী-টগড়া ফেরি ঘাটটি দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু কঁচা নদীতে ডুবোচরের কারনে দীর্ঘ দিন ধরে বেশ কয়েকটি রুটের যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্তমানে চরখালী-টগড়া ফেরিঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়া, পিরোজপুর রুটের যানবাহন চলাচলকারীদের আর সমস্যা হচ্ছে না।