পায়রা তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র

ভাঙচুর-সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০০:২৫

সংঘর্ষে এক চীনা শ্রমিক নিহতের ঘটনার পর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পায়রা তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। সকল চীনা শ্রমিক ও কর্মচারী কঠোর নিরাপত্তায় বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চায়না পল্লিতে নিরাপদে রয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও বাঙালি ও চীনা শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেনি। তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজে গতি ফিরে আসবে। এদিকে সংঘর্ষের পর বিদ্যুত্ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে এক শ্রেণির দুষ্কৃতকারী বিভিন্ন ইলেকট্রনিক এবং ভারী যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার খবরে পুলিশ গতকাল দুপুর থেকে মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (বিসিপিসিএল) প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলা বলেন, ‘কম্পিউটার বেইজড সার্ভার, ডিভাইসসহ অনেক মালামাল দুর্বৃত্তরা লুট করে নিয়ে গেছে। কী ধরনের মালামাল খোয়া গেছে, তার হিসাব-নিকাশ চলছে। কেন এ ঘটনা ঘটল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের বয়লারের ওপর থেকে সবিন্দ্র দাস নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিচে পড়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। সবিন্দ্রর লাশ গুমের গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশি শ্রমিকরা বয়লার এলাকার প্রকল্পের একটি অফিস, ক্যানটিন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর চালান। এক পর্যায়ে চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় গুরুতর আহত চীনা শ্রমিক ঝাং ইয়াং ফাং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনটি কমিটিকেই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদাভাবে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে বুধবার দুপুরে গুরুতর জখম হওয়া চীনা শ্রমিক লিন কু মু, ঝ্যাং হুয়া, ঝ্যাং সিং থান, ঝাং হু এবং জু ঝাংকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। রডের আঘাতে এদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে। গতকাল এ ছয় জনের শরীরেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

পায়রা তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘এলাকায় র্যাব, আর্মড পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’