এতিমখানা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩, ২১:০৪

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আবু হুরায়রা (রা.) হাফেজিয়া শিশু সদন কমপ্লেক্স ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ভুয়া এতিম ছাত্র দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অর্থ লোপাটের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ ১৬ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সমাজসেবা বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযোগে বলা হয়, এতিমখানা পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. জুলহাস সরকার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে এবং ১৪ জন সাধারণ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে কমিটির সভাপতি হয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন বিতর্কিত লোকদের নিয়োগ দেন। যা এলাকায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। 

জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী এতিমখানা কমিটির সভাপতি জুলহাস সরকারের আসল নাম মো. আব্দুর রউফ সরকার। তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম গোপন করে এতিমখানার ব্যাংক একাউন্টের হিসাব নম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া বাবা-মা থাকা ছাত্রদের এতিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এতিমখানাটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নিবন্ধিত এবং ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত। এছাড়া স্থানীয়রাও এখানে আর্থিক সহায়তা করে। কিন্ত কমিটির বর্তমান সভাপতি জুলহাস মিয়া ও কয়েকজন সদস্য প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে নামে-বেনামে বরাদ্দ আসা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে। এছাড়া বর্তমান কমিটি মাহমুদুল্লাহ নামে একজনকে নিয়োগ দেয়। তাকে ২০১৯ সালে মাদরাসার ১ লাখ ৮৫ হাজার আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। কমিটির বর্তমান সভাপতি জুলহাস অন্যান্য সদস্যের যোগসাজশে তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের সুবিধার্থে মাহমুদুল্লাহর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়। মাহমুদুল্লার সঙ্গে গ্রামের মাদক কারবারিদের সম্পর্ক রয়েছে। সে তাদের সোর্স হিসেবেও নিয়মিত কাজ করে। 

এতিমখানার শিক্ষক অভিযুক্ত মাহমুদুল্লাহ বলেন, আমি নিয়োগে কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। বর্তমান কমিটির লোকজন মনে করেছেন আমাকে নিয়োগ দিবেন তাই দিয়েছেন। আবার বাদ দিলে আমি চলে যাব। তবে এর আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এ অভিযোগ মিথ্যা।  

কমিটির সভাপতি অভিযুক্ত জুলহাস সরকার বলেন, স্থানীয় আক্তার মেম্বার জালিয়াতি করে আব্দুর রউফ থেকে জুলহাস সরকার নামে ভোটার কার্ড বানিয়েছে। তাকে আমি জিজ্ঞাসা করায় সে বলছে সমস্যা নাই। আমি জালিয়াতির কোনো কাজ করিনি। তবে সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত ২২ এতিমের মধ্যে সবাই এতিম না বলে তিনি স্বীকার করেন।     

এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, জুলহাস সরকার জালিয়াতি করে নিয়মবর্হিভূতভাবে প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় কমিটিতে আসে। এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা পরিচালকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

দেবিদ্বার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করছি। খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দেব।  

কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জেডএম মিজানুর রহমান খান বলেন, এতিমখানার অর্থ লোপাটসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কাজ করছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও