বিসিবির উৎসব গায়ে মাখতে পারল না সাফ চ্যাম্পিয়নরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৩৩

সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে ৫০ লাখ টাকা উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই টাকা গতকাল বিকালে মিরপুর স্টেডিয়ামে বোর্ড কার্যালয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন খেলোয়াড় কৃষ্ণা রানী সরকার, গোলকিপার রূপনা চাকমা এবং দলের প্রধান কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন গিয়েছিলেন বিসিবি অফিসে। সেখানে বোর্ড রুমে তাদেরকে বসানো হয়। পরে বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস, পরিচালক ইফতেখার মিঠু এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন আসেন এবং কথা বলে চেক তুলে দেন। ৩২ জনকে চেক দেওয়া হয়েছে। যার যার নামে চেক দেওয়া হয়েছে। ৩২ জনকে চেক দেওয়া হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা ঘোষণা দেওয়া হলেও ৫১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বিকালের পৌনে ৫টায় চেক গ্রহণ করে বাফুফে ভবনে ফিরে ইফতার করেন কোচ, খেলোয়াড়রা।

চেক গ্রহণের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। কারো মুখে হাসি নেই। সাফ চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা উপমহাদেশের ফুটবল কাঁপুনি ধরিয়ে দিল। ভারত, নেপাল মালদ্বীপকে চোখের জলে বিদায় করে দিয়েছিল সাফের মঞ্চ থেকে। নেপালে অনুষ্ঠিত সাফে অংশগ্রহণকারী সব দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, গত বছর সেপ্টেম্বরে। মেয়েরা যখন ট্রফি হাতে ঢাকায় ফিরে আসে, তখন দেশের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ঢাকায় বিমানবন্দর সড়কে মানুষের ঢল নেমে ছিল। রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ছাদখোলা বাসে দাঁড়ানো ফুটবলারদের সম্মান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সেই চ্যাম্পিয়নদের হাতে সাদামাটাভাবে চেক তুলে দিল বিসিবি। চেক গ্রহণের ছবিটা দেখে মনে হলে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। বন্যার্তদের মধ্যে যেভাবে চেক তুলে দেওয়া হয় যেন সেটিই করছে। বিসিবির মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এটি মানায়নি। চ্যাম্পিয়নদেরকে উত্সব মুখর পরিবেশে উপহার তুলে দেওয়া যেত। বিসিবির সেই সামর্থ্য রয়েছে। হয়তো এমন পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু চেক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কী এমন দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল যে, মাঝখানে পড়ে দড়ি টানাটানির খেলায় চ্যাম্পিয়ন ফুটবলাররা বিসিবির উত্সবটা গায়ে মাখতে পারল না। বিসিবি বলছিল চেক রেডি। বাফুফে বলছে চেক পাইনি। এই নিয়ে দুই পক্ষের  কথা চালাচালি। অথচ একটা সুন্দর আয়োজন করে বিসিবি সাফ চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের হাতে অর্থ তুলে দিতে পারত। সেটা হলো না। নিন্দুকেরা বলছেন গত কয়েক দিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য পালটা বক্তব্যের ফাঁকে পড়ে বিরক্ত হয়েই কি চেক তুলে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল বিসিবি, হতেও পারে। অন্তত কথা বন্ধ হোক। সাবিনারা চেক গ্রহণ করছেন। মুখে হাসি নেই। ওদের মুখে মাঝেমধ্যে কৃত্রিম হাসি দেখা গেল। কোচ ছোটনের মুখে হাসি নেই। জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে রাজি না তিনি।

চেক হাতে মলিন মুখে সাবিনাদেরকে গাড়িতে তুলে মিরপুর স্টেডিয়াম আঙ্গিনা ছেড়ে বাফুফের পথে ছুটল গাড়ি। অন্তত একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যায় বিসিবি এবং বাফুফে একসঙ্গে বসে কথা বললে চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা আরো বেশি সম্মানিত হতেন। দুই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের আলোচনা না হওয়ায় সেটি হলো না।

চ্যাম্পিয়নরা কে কত পেলেন

২৩ ফুটবলারের মধ্যে যারা একাদশে খেলেছেন তারা পেয়েছেন ২ লাখ টাকা করে। অতিরিক্ত ৬ ফুটবলার পেয়েছেন দেড় লাখ টাকা করে। এর পরে যে ৬ জন রয়েছেন, যারা খেলেননি তারা পেয়েছেন ১ লাখ টাকা করে। অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তাকে অতিরিক্ত ২ লাখ এবং সেরা গোলকিপার রূপনা চাকমাকে অতিরিক্তি ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়।  

ইত্তেফাক/জেডএইচ