ব্যাট হাতে যখন মাঠে নামেন, ৫১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ড তখন রীতিমতো ধ্বংসস্তূপ। ইনিংস হারের লজ্জা এড়িয়ে বাংলাদেশকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতেই তাদের করতে হবে আরও অন্তত ১০৫ রান। হাতে মাত্র ৫ উইকেট, যার বেশির ভাগই টেলএন্ডার। এই অবস্থায় ব্যাট হাতে নামার পথে লরকান টাকেরের বুক ধড়ফড়ই করার কথা। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের ২৬ বছর বয়সি তরুণের বুক কাঁপছিল বলে মনে হয় না! ভয়কে ঠাঁই না দিয়ে তিনি বরং মনে মনে অন্য পরিকল্পনা এঁটেই নামছিলেন। আর নিজের সেই পরিকল্পনায় বিস্ময়করভাবে সফল লরকান টাকের। নিজের অভিষেক টেস্টেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছেন আয়ারল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
শুধু টেস্টে নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই এটা প্রথম সেঞ্চুরি টাকেরের। এর আগে ১৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টা হাফসেঞ্চুরি করেছেন। সেই টাকের নিজের অভিষেক টেস্টেই পেয়ে গেলেন সেঞ্চুরির দেখা। টেস্ট ক্রিকেটে আইরিশদের পক্ষে যেটা আবার মাত্র দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। টেস্টে আইরিশদের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছেন কেভিন ও’ব্রায়ান। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের অভিষেক টেস্টে। মানে কেভিন ও’ব্রায়ানও অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই একই কীর্তি গড়লেন টাকের। তবে দলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় কেভিন ও’ব্রায়ানের সেঞ্চুরির চেয়ে লরকান টাকেরের সেঞ্চুরিটাই হয়তো উপরে থাকবে। তার এই সেঞ্চুরিই যে আইরিশদের ইনিংস হারের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। শুধু ইনিংস হারের শঙ্কা মুছে ফেলা কেন, আইরিশরা এখন মনে মনে জয়ের স্বপ্নই দেখছে কি না কে জানে!
আইরিশরা রাতে কি পরিকল্পনা করে কাটিয়েছে তারাই বলতে পারবে। তবে টাকেরের প্রথম সেঞ্চুরির সঙ্গে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ও হ্যারি টেক্টরের হাফসেঞ্চুরিতে গতকাল টেস্টের তৃতীয় দিনটা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্রেফ হতাশার। প্রথম ইনিংসে ১৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে আইরিশরা দ্বিতীয় দিনে মাত্র ২৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় কাঁপছিল। টাকের, টেক্টর ও ম্যাকব্রাইনের ব্যাটে চড়ে তৃতীয় দিন শেষে সেই আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮৬ রান। মানে ইনিংস হারের শঙ্কা মুছে আইরিশরা এরই মধ্যে পেয়ে গেছে ১৩১ রানের লিড। তাদের হাতে আছে আরও ২টি উইকেট।
আইরিশদের এই জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার মূল নায়ক অবশ্যই টাকের। দলকে টেনে তুলতে প্রথম ইনিংসেও তিনি খেলেছিলেন দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস। গতকাল তো খেলে ফেললেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরই সেরা ইনিংসটি। শেষ পর্যন্ত ১০৮ রান করে এবাদত হোসেনের শিকার হয়েছেন। তার নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ভালো মতোই। উইকেটে গিয়েই জুটি বাঁধেন হ্যারি টেক্টরের সঙ্গে। টেক্টর প্রথম ইনিংসেও করেছিলেন হাফসেঞ্চুরি।
হাফসেঞ্চুরি তিনি করেছেন কাল দ্বিতীয় ইনিংসেও। ৫৬ রান করা এই টেক্টরের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন টাকের। এরপর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে গড়েন ১১১ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙে টাকেরের বিদায়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশের হতাশার কারণ হয়ে ম্যাকব্রাইন এখনো উইকেটে আছেন ৭১ রান নিয়ে। টেস্টে এটাই তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি। যেটিকে প্রথম সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার স্বপ্নও হয়তো দেখছেন। তবে টেক্টর-ম্যাকব্রাইনকে ছাপিয়ে তৃতীয় দিনের বড় নায়ক নিশ্চিতভাবেই লরকান টাকের। একটি ছক্কা ও ১৪ চারে সাজানো ১৬২ বলে ১০৮ রানের ইনিংসটি যে গত রাতে টাকেরকে স্বপ্নময় শান্তির একটা ঘুম উপহার দিয়েছে, সেটি অনুমেয়ই।
