উড়ন্ত আবাহনীকে মাটিতে নামাল শেখ জামাল

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ১১:০৫

চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক জয় নিয়ে উড়ছিল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির খেলা আট ম্যাচের আটটিতেই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে নিজের মজবুত অবস্থান করে নিয়েছিল। তবে নিজেদের নবম ম্যাচে খেলতে নেমেই আসরের প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হল আবাহনীকে। 

গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেখ জামালের কাছে কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে আবাহনী। এ ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫০ রান করেছিল আবাহনী। জবাব দিতে নেমে ৫ বল হাতে রেখে জয় পায় শেখ জামাল। এতে করে ৯ ম্যাচে ৮ জয় ও ১ হারে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে শেখ জামাল। সমান পয়েন্ট হলেও রানরেট বেশি থাকায় তালিকার শীর্ষেই রয়েছে আবাহনী।

গতকাল সোমবার প্রতি ম্যাচের মতো শুরু করতে পারেনি আবহনী। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আবাহনীর শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ওপেনার এনামুল হক বিজয় এ ম্যাচে আউট হয়েছেন মাত্র ১৫ রান করে। এতে করে ওপেনিং জুটি ভাঙে মাত্র ৪১ রানেই। তবে বিজয় ফিরলেও অপর প্রান্ত আগলে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে থাকেন আরেক ওপেনার নাঈম শেখ। দ্বিতীয় উইকেটে জাকের আলিকে নিয়ে তিনি যোগ করেন আরও ৫৩ রান। নাঈম ৪৬ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে ৫৮ রান করেন। এছাড়া জাকের দলীয় ২২০ রানে থামেন। ১১৯ বলে ৬ চারে ইনিংস-সেরা ৭৯ রান করেন তিনি। শেখ জামালের পক্ষে আরিফ আহমেদ সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পান এবাদত হোসেন ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

আবহনীর দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় স্কোরবোর্ডে ৩০ রান যুক্ত হতেই ওপেনার সৈকত আলীকে হারায় শেখ জামাল। ২ রান করে দানিশ আজিজের বলে আউট হন তিনি। তবে সঙ্গী হারালেও তিনে নামা ফজলে রাব্বিকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন সাইফ হাসান। পরের ব্যাটাররাও উইকেটে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি উইকেটে। আবহনীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেখ জামাল ১০৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

তবে চতুর্থ উইকেটে হৃদয় ও তাইবুরের জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে শেখ জামাল। ৯৮ রানের জুটি গড়েন তারা চতুর্থ উইকেটে। হৃদয় ৭৭ বলে ইনিংস সেরা ৭২ রান করেন, এসময় তিনি ৫ চার ও ১ ছয় হাঁকান। এছাড়া তাইবুর ১০০ বলে ৪ চারে ৬৩ রান করেন। এরপর নুরুল হাসান সোহান এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শেখ জামালের অধিনায়ক ১২ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ইনিংসে আবাহনীর হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রাকিবুল হাসান ও দানিশ আজিজ।

এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে বিকেএসপির মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এছাড়া বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আরেক ম্যাচে ১৫২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

ইত্তেফাক/এসএস