কুমিল্লার মনোহরঞ্জে ক্ষতিকর নেকব্লাস্ট আক্রমণে বোরো ধান নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন কৃষক। বিশেষ করে বিআর-৮১, বিআর-৯২, বিআর-২৯, ন্যাশনাল-১ হাইব্রিড জাতীয় চিকন ধানে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
কীটনাশক প্রয়োগে সুফল না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক পরামর্শ নিতে ছুটছেন কৃষি অফিসে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, মনোহরগঞ্জে প্রায় ৯ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার মৈশাতুয়া, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, হাসনাবাদ ও খিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের বোরো ক্ষেতে ‘নেকব্লাস্ট’আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ধানে শীষ পরিপূর্ণ হওয়ার পর ছড়াগুলো পুড়ে লালছে বর্ণ ধারণ করছে। কোথাও সাদা হয়ে যাচ্ছে পুরো ছড়া।
উপজেলার সব এলাকার কৃষকই কমবেশি এমন ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে এ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করে শতশত কৃষক ক্ষতির সন্মুখীন হওয়ার কথা জানা গেছে।
উপজেলার লৎসর গ্রামের চাষী শাহজাহান জানান, তিনি ১৪ গণ্ডা (৮৪ শতক) জমিতে বিআর-৯২ ধানের চাষ করেন। ভালো ফলনের আশায় এ ধান চাষ করলেও এমন পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি নষ্ট হয়ে যাওয়া পুরো জমির ধান কেটে ফেলার কথা জানান। জমিতে হাল বীজ, সার ও মুজুরিসহ বিনিয়োগকৃত পুঁজি হারিয়ে তিনি হতাশায় ভুগছেন।
একই এলাকার কৃষক ফারুক হোসেন জানান, ৩৩ শতক জমিতে তিনি হাইব্রিড জাতের বিআর-৮১ ধান লাগান। এ রোগের আক্রমণে পুরো জমির ধান জ্বলে সাদা চিটায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
একই অভিযোগ উপজেলার হাটিরপাড় গ্রামের কৃষক এনায়েত উল্লাহর। তিনি জানান, চার গণ্ডা (২৪ শতক) জমিতে হাইব্রিড জাতের বিআর-৮৯ ধান চাষ করেন। নেকব্লাস্ট আক্রমণে সবটুকু জমির ধান পুড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহানুর ইসলাম জানান, নেকব্লাস্ট মূলত বীজবাহিত রোগ। যথাযথভাবে বীজ শোধন করা হলে এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পাতা থেকেই এ রোগের সংক্রমণ শুরু। শুরুতেই দমন করা না হলে এটি নেকব্লাস্টে পরিণত হয়।দি
তিনি জানান, এ রোগ দেখা দিলে জমিতে পানি ধরে রাখতে হয়। রোগ প্রতিরোধে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ এবং ইউরিয়া সারের প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হয়। যে কোনো একটি অনুমোদিত ছত্রাকনাশক যেমন ট্রুপার, নাটিভো, সেলটিমা সঠিকমাত্রায় পাঁচ-সাত দিন পর পর স্প্রে করতে হয়।
এ এলাকায় হাইব্রিড জাতীয় কিছু ধানে নেকব্লাস্ট আক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত করে মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা এ জাতীয় সমস্যা সমাধানে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার কথা জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
