বরিশালের মুলাদীতে প্রতিপক্ষের হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (১০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বালিয়াতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার জলিল কবিরাজের ছেলে আলমগীর কবিরাজ (৫০) ও পূর্ব তয়কা গ্রামের সেলিম বেপারীর ছেলে হেলাল বেপারী (৪০)।
জানা যায়, আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় বাটামারা ও সফিপুরের কবিরাজ, আকন হাওলাদারের সঙ্গে হাজী গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের দাদন হাওলাদারের ভাই আনিছ হাওলাদারকে হত্যা করা হয়। এতে আলমগীর কবিরাজ ও তার লোকজন নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় আনিছ হাওলাদারের ভাই দাদন হাওলাদার বাদী হয়ে আলমগীর কবিরাজ, হেলাল বেপারী, কামাল বেপারীসহ ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলো। এর পর থেকে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে আলমগীর কবিরাজ লোকজন নিয়ে এলাকায় ফিরে আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া তয়কা-টুমচর এলাকায় আকন ও হাজী গ্রুপের মধ্যে দ্বদ্বে একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর কবিরাজ আকন গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হাজী গ্রুপের আলম বেপারী এবং রুবেল শাহর বাড়িতে হামলা করে। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মুলাদী থানার ওসি তুষার কুমার মণ্ডল বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি সদস্য আলম বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন আরও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বাটামারা ও সফিপুর ইউনিয়নে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন পর এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে সোমবার রাতে দু’জনের লাশ পাওয়া গেছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
