বকেয়া বেতনের দাবিতে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষকদের অবস্থান

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ১৮:৫৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ১৩ মাসের বেতন বকেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষকরা। পরে দুপুর ২টার দিকে গভর্নিং বডির সদস্য মোস্তফা কামাল চিশতী ও মাসুদ করিম লাভুর আশ্বাসে কর্মসূচি তুলে নেয় আন্দোলনরত শিক্ষকরা। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, আমাদের ১৩ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে ভর্তি ফি, ফরম ফিলাপ, কেন্দ্র ফি, প্রবেশপত্র ফিসহ আনুষঙ্গিক ফি বাবদ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু অনার্স কোর্সের জন্য নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরে বেতন পরিশোধ করা হয় না। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা টাকা নিচ্ছে। যেটা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। নন-এমপিও শিক্ষকরা ২-৫ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ বাবদ নিয়ে থাকি প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব বিষয়ে একাধিকবার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানকে বলা হলেও তিনি কোনো সুরাহা করেনি। বরং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সম্মানীর নামে ৭ লাখ টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যরা বুধবার সমাধান করার আশ্বাস দেওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। 

অধ্যক্ষের কক্ষে তালা মেরে শিক্ষকদের অবস্থান। ছবি: ইত্তেফাক

গভর্নিং বডির সদস্য মোস্তফা কামাল চিশতি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে অধ্যক্ষের রুমের তালা খুলে আলোচনায় বসি। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার কলেজ প্রশাসন, ম্যানেজিং কমিটি ও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এসএম খলিলুর রহমান বলেন, ননএমপিও শিক্ষকদের কোনো বেতন বকেয়া নেই। তারা পাঠদান বাবদ প্রতি ক্লাসে ১০০ টাকা করে পেয়ে থাকে। সেখানে হয়তো কিছু দাবি  থাকতে পারে। তাদের দাবি থাকলে আলোচনায় বসতে পারে। কিন্তু তারা কোনো কিছু না বলেই আমাকে অবরুদ্ধ করে এবং কক্ষ তালাবদ্ধ করে রেখে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও