যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: তাইওয়ান

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ১৫:০৭

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ অভিযোগ করেছেন, চীন তার দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাইওয়ানের চারপাশে সম্প্রতি শেষ হওয়া তিন দিনের বড় আকারের সামরিক মহড়ার মাধ্যমে চীনের এ উদ্দেশ্য বোঝা যায়। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে জোসেফ উ বলেন, 'চীনের সামরিক মহড়ার দিকে তাকান, চীনের নেতৃত্বের বক্তব্য শুনুন, মনে হচ্ছে তারা তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।' জোসেফ উ'র মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবেলায় শান্তিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ জাতিসংঘ সনদের মূল ভিত্তি। কিন্তু চীন সেই পথে হাঁটছে না।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ

তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার বিরোধে বেইজিং জবরদস্তি, সামরিক ও শক্তির হুমকির আশ্রয় নিয়েছে। এই কৌশল তাইওয়ানের জন্য সমালোচনামূলক এবং অগ্রহণযোগ্য। জোসেফকে প্রশ্ন করা হয়, তাইওয়ানের কি নিজেকে রক্ষা করার মতো যথেষ্ট অস্ত্র আছে যদি চীন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করে?

জবাবে জোসেফ উ জানান, তাইওয়ান বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে। এমনকি জো বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানে অস্ত্রের নয়টি  চালানের ঘোষণা দিয়েছে। তাইওয়ান সামরিক প্রশিক্ষণ জোরদার করেছে।

তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার বিরোধে বেইজিং জবরদস্তি, সামরিক ও শক্তির হুমকির আশ্রয় নিয়েছে।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই পরিস্থিতিতে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চেয়ে দৃঢ়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ানে যুদ্ধ শুরু হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চীনকে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক উদ্যোগ না নিতে চাপ দিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হতে হবে।'

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন চীনের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় তিনি মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর জবাবে বেইজিং তাইওয়ানকে ঘিরে তিন দিনের বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায়।

তাইওয়ানে যুদ্ধ শুরু হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই সামরিক মহড়া শেষ হয়েছে গত সোমবার (১০ এপ্রিল)। চীনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই মহড়া সফল হয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন বাহিনীর সক্ষমতা বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। 

জবাবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন জানান, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। তবে, মহড়া শেষ হলেও তাইওয়ানের চারপাশ থেকে চীনের যুদ্ধবিমান ও জাহাজ সরানো হয়নি।

মহড়া শেষ হলেও তাইওয়ানের চারপাশ থেকে চীনের যুদ্ধবিমান ও জাহাজ সরানো হয়নি।
 
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের নৌবাহিনীর ৯টি জাহাজ ও ২৬টি যুদ্ধবিমান দেখতে পায় তারা। তারা দ্বীপের চারপাশে 'যুদ্ধ প্রস্তুতি' টহল দিচ্ছিল।

ইত্তেফাক/ডিএস